মোশাররফ হোসেন: সাবাশ বাংলাদেশ জলে পুড়ে ছাড়খার, তবু মাথা নোয়বার নয়,,। বিশ্বকে তাক লাগিয়ে আত্ম মর্যাদা, অহংকার ও সক্ষমতার প্রতীক পদ্মা সেতুর বর্ণাঢ্য উদ্বোধন করলেন বিশ্বনেতরি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
শেখ হাসিনা শনিবার সকালে ঐতিহাসিক পদ্মা সেতুর মাওয়া ও জাজিরা প্রান্তে বিশাল নামফলকের পর্দা উনমোচন করার পর কাগজের রঙিন বৃষ্টির আমেজে ও বিমানবাহিনীর দৃষ্টিনন্দন বাংলাদেশের পতাকাবহন, কসরত ১৮ কোটি বাঙালির মাথা উড্ডীন রেখে দেশবাসীর কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন । তিনি চীন, ভারত জাপান, জার্মানি, নেদারল্যান্ড,সহ বিভিন্ন দেশের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ।
তিনি বলেন, দেশী ও বিদেশী চক্রান্তকারীদের উপেক্ষা করে আত্মমর্যাদা ও সক্ষমতা অর্জন করে এগিয়ে যাবার জন্য দেশবাসীকে সবসময় সতর্ক থাকতে হবে।
আগামীতে পদ্মা সেতু হবে এশীয় রেলওয়ে ও হাইওয়ের সেতুবন্ধন ।দেশের দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের ৩কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে পদ্মা সেতু । একে সবাই মিলে রক্ষণাবক্ষেণ করতে হবে।
দেশের ১,২৩ ভাগ প্রবৃদ্ধি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে পদ্মা সেতু ।বদলে যাবে মানুষের জীবন । আমার শেষ জীবন পর্যন্ত দেশের মানুষের জন্য কাজ করে এগিয়ে যাব।
উদ্বোধন করার আগে মহান আল্লাহ্তায়ালার কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিশেষ দোয়া করা হয়। সকালে উদ্বোধন পর্বে সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, কেবিনেট সচিব খোন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সংক্ষিপতো বক্তব্য রাখেন ।এসময় দেশী ও বিদেশী বিশিষ্ট নাগরিক, ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব সাংরিলা,৫১জন রাষ্ট্রদূত, মনতিরিবরগো , মাওয়ায় উপস্থিত ছিলেন।
এরপর শেখ হাসিনা,স্পিকার ডঃ শিরিন শারমিন ,উপদেষ্টা ডঃ মসি উর রহমান, সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন, মুখখো সচিব আহমেদ কায়কাউস, সাবেক সচিব মোশাররফ হোসেন, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল সহ পদ্মা সেতুর মাঝ নদী বরাবর দাড়িয়ে বিমান বাহিনীর যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার এর অভিবাদন গোরোহন করে ওপারে শরীয়তপুর জেলার জাজিরা যান। সেখানে দিতীয় নামফলক উদ্বোধন করার সময সংসদের চিফ হুইপ নুরুল আলম চৌধূরী, সংসদ শেখ হেলাল সহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন ।
অতঃপর শরীয়তপুর জেলার শিবিরের কাঁঠালিয়ায় আওয়ামী লীগের মহা জনসভায় শেখ হাসিনা বক্তৃতা করেন ।লাখো লাখো মানুষ এতে অংশ নেন ।
পদ্মা সেতু সংযুক্ত করবে পায়রা সমুদ্র বন্দর, মংলা, বেনাপোল সীমান্ত ।সময় বাঁচিয়ে মানুষ ও যানবাহন চলাচল করবে। রেল শুরু হবে আগামী জুন মাসে । সেতু নির্মাণে চায়না বিরিজ, দেশী ও বিদেশী পোরকৌশলী, সহ ১০ হাজার শ্রমিক কাজ করেন।
বাংলাদেশের কিংবদন্তি পোরকৌশলী অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধূরীর মহাপরিকলপনা ও সেতু বিভাগের কর্মকর্তা এবং জাইকার পরামর্শে বর্তমান সেতু এসথলের কাজ শুরু হয়েছিল২০০৯ সালে । বিশ্ব বেয়াংক অর্থায়ন চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর পর ২০১৪ সালে বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণ কাজ শুরু করে।তবে শেখ হাসিনা ২০০১সালে সেতুর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন । ১৯৭২সালে সেতু নির্মাণ করার পরিকল্পনা গোরোহন করেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান । এটা সংসদে অনুমোদন করা হয়। ১৯৭৪সালে জাপান সরকারের কাছে অর্থায়নে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছিল ।
পদ্মা নদীর পানি প্রবাহ ঠিক রেখে ১২০ মিটার দূরত্বে পিলার তৈরী করা হয়েছে । সেতুর নীচে নৌ চলাচল ও সেতুর ওপরে সড়ক ও রেল চলবে ।
তীরে নদীশাসন পরিকল্পনায় মূল কাজটি করেন দেশবরেননো পানিপ্রবাহ বিশেষজ্ঞ ডঃ আইনুন নিশাত।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কবর জিয়ারত করতে সরাসরি গোপালগঞ্জের টুংগিপাড়া যেতে এখন সময় লাগবে মাত্র ২ঘন্টা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আর্থিক, প্রকৌশল এবং রাজনৈতিক ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে দীর্ঘতম সেতুটি উদ্ধোধন করার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ আজ তার স্বপ্ন পূরণ প্রত্যক্ষ করছে।
শেখ হাসিনা রাজধানীর সঙ্গে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এবং অন্যান্য অংশের সাথে সংযোগকারী খর¯্রােতা এবং জল প্রবাহ, দৈর্ঘ্য ও আকারের দিক থেকে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী বিবেচিত নদীর উপর এই সেতুটির উদ্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে মাওয়া প্রান্তে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পদ্মা সেতুর ফলক উম্মোচন করেন, যেখানে বিদেশী কূটনীতিকসহ হাজার হাজার বিশিষ্ট অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দেশের উত্তর-পশ্চিম এবং অন্যান্য অঞ্চলের সংযোগকারী যমুনা নদীর উপর ১৯৯৮ সালে এ যাবত কালের দীর্ঘতম বঙ্গবন্ধু বহুমুখী সেতু চালুর ২৫ বছর পরে তিনি আরো দীর্ঘতম পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করলেন।
তবে, দেশের নিজস্ব অর্থের ওপর নির্ভর করে সেতু তৈরির ব্যাপারে অনেক অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের সন্দেহকে বাতিল করে সম্পূর্ণরূপে অভ্যন্তরীণ অর্থায়নে নির্মিত পদ্মা সেতু অতিরিক্ত তাৎপর্য বহন করে।
পদ্মা সেতু প্রকল্পটি বিভিন্ন প্রকৌশল বিস্ময়ের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ প্রত্যক্ষ করেছে, শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জন্য একটি বিস্ময়কর কাঠামো হিসেবে আবির্ভুত হয়েছে, যেখানে রাষ্ট্রীয় শিল্প যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়েছে এবং কিভাবে ব্যবহার করা হয় তা জানা যায়।
রাজনৈতিক বিবেচনায় সেতুটি নির্মানে বৈদেশিক অর্থায়ন বন্ধ করে কার্যত এই উদ্যোগ বাতিল করার সূক্ষ্ম প্রচারণার মধ্যে এই প্রকল্প বহুমুখী বাধার সম্মুখীন হয়েছিল।
বেশ কিছু রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক বিশ্লেষক এমনকি কিছু বিদেশী অংশীদারদেরও অনুমান ছিল যে প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হবে।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত , শক্তিশালী পদ্মা বিজিত হয় এবং উভয় তীরের মানুষ এখন আর অসহায় থাকবে না, কারণ তারা উভয় পাড়ের সাথে সংযোগ পেয়েছে।
রোববার থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ সেতুর উপর দিয়ে মাত্র ৬ মিনিটে ফেরি ঘাটের ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন ছেড়ে সড়কপথে সরাসরি ঢাকায় যাবেন।
স্বপ্নের সেতু শুধু রাজধানী ঢাকা এবং দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মধ্যে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত সরাসরি সড়ক ও রেল যোগাযোগই স্থাপনই করবে না এটি এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বৃহত্তর সংযোগ ও বাণিজ্যের দুয়ার খুলে দেবে।