মোশাররফ হোসেন: একুশ মানে মাথা নত না করা। ১৯৭১সালের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের জয়ে মাথা নত হয়েছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর। ১৬ ডিসেমবর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ৯০হাজার সৈন্য সহ জেনারেল নিয়াজির আত্মসমর্পণ সহযোগী যুক্তরাষ্ট্রের মাথা নত হয়েছিল। মাথা উঁচু হয়েছিল মিত্র ভারতীয় সেনাবাহিনীর। সেইসঙ্গে সহযোগী তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন, বর্তমান রাশিয়ার। সেই থেকে শুরু বাংলাদেশ বিরোধী ষড়যন্ত্র। পাকিস্তানের মিত্র যুক্তরাষ্ট্র থেমে থাকেনি। ১৯৭৪সালের দুর্ভিক্ষ সৃষ্টির নেপথ্যে , ১৯৭৫সালে ১৫ আগসট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা, ৩ নভেম্বর জেলে তাজউদ্দীন, সৈয়দ নজরুল ইসলাম,কামরুজজামান,মনসুর আলী হত্যা , পরবর্তীতে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে ধারাবাহিকভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যাসহ , ২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টার পেছনের কারণ খুজলে মিলবে দেশী ও বিদেশী ষড়যন্ত্র। বাংলাদেশের জন্মের ৫০ বছর পরেও সেই ষড়যন্ত্র ভিন্ন অবয়বে শুরু হয়েছে। ১৯৭৫সালের হেনরি কিসিনজারের যোগ্য উত্তরসূরী বিলিংকেন নেমেছেন ভিসা নীতির নামে। ভিয়েতনামের পর আফগানিস্তান ছেড়ে আসতে বাধ্য হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে। বিশ্ব পরাশক্তির একি হাল । এখন কুটকৌশল হচ্ছে যুদ্ধ। বলয়ের লড়াই। জোটের লড়াই। তাইতো নেটো, জি ২০ সহ বিভিন্ন বলয়। রাশিয়ার পরম বন্ধু চীন। ভারতকে আবার উভয়ের দরকার। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত, রাশিয়া ও চীন, জাপান সহ উন্নত বিশ্বের সম্পর্ক গভীর হয়েছে। বাংলাদেশ প্রশ্নে ভারতের কথা আবার যুক্তরাষ্ট্র মেনে নিচ্ছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্ব চলুক, এটা ভারত, রাশিয়া ও চীন চায়। যুক্তরাষ্ট্র এটা মেনে নিতে চায় কী? তাদের লক্ষ্য ভিন্ন । তৃতীয় ধারা । দুর্বল সরকারই হয়তো ! কারণ ঔপনিবেশিক চিন্তা। দক্ষিণ কোরিয়ার মত। আসলে এসব এখন কী আর চলে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। নিজ অর্থে পদ্মা সেতু, ঢাকায় চলছে মেট্রোরেল, শুরু হয়েছে এক্সপ্রেস ওয়ে ।কর্ণফুলি নদীর তলদেশে সুড়ংগ পথ শুরুর অপেক্ষার প্রহর গুণছে। ঢাকা কক্সবাজার রেল শুরু হবে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬.৭। এ কীসের যাদু। এটা একজন শেখ হাসিনার যাদু। আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে, বাংলাদেশের নেতৃত্বে শেখ হাসিনার হাতে থাক এটা ভারত চায়।বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক অবস্থান বিশ্বের সকল দেশের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তির দেশীয় রাজনৈতিক দলের অনুসারী ও বিএনপির সংগে যে জোট তারা যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন হতে চায়। এজন্য একদিকে আন্দোলন, আন্দোলন খেলা খেলছে তারা। সাংবিধানিক পদ্ধতিতে নির্বাচন এড়িয়ে ভিন্ন পথে ক্ষমতাসীন হতে চাইছে।তারা মাইনাস শেখ হাসিনার কথা বলছে। আওয়ামীলীগ আবার বলেছে নো হাসিনা , নো ইলেকশন। ১৯৭৫সালের ডেভিড বোসটারকে মানুষ ভোলেনি। হাস আবার তাকে অনুসরণ করছে না তো? চোখ কান খোলা রাখুন। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ১৮কোটি মানুষকে ১৯৭১ সালের মতই ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। একজন শেখ হাসিনার বিকল্প নেই।