গত ১৪ই অক্টোবর, শনিবার বৃহত্তর চট্টগ্রাম ফাউন্ডেশ অব কানাডার উদ্যোগে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবান অনুষ্ঠিত হয় টরন্টো শহরের মসজিদে আল আবেদীনের হলরুমে। মেজবান চট্টগ্রামের সু প্রাচীন ঐতিহ্য। মেজবানি একটি ফরাসী শব্দ যার বাংলা হল আতিথেয়তা বা মেহমানদারি। ঐতিহ্যগত ভাবে চট্টগ্রাম-বাসী অত্যন্ত অতিথি পরায়ণ। মেহমানদারি বা অতিথিদের জন্য বিশেষ ভোজের ব্যবস্থা করাই হচ্ছে মেজবান। কয়েক শতক ধরে চলে আসা মেজবানির ঐতিহ্য এখনো পর্যন্ত ধরে রেখেছে চট্টগ্রাম-বাসী। গর্বের বিষয় ঐতিহ্যবাহী মেজবান গত কয়েক দশকে চট্টগ্রাম ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি বর্তমানে এই মেজবান দেশের গণ্ডি পেরিয়ে প্রবাসেও পৌঁছে গেছে। তারই অংশ হিসাবে কানাডায় বৃহত্তর চট্টগ্রাম ফাউন্ডেশন অব কানাডা কোভিড মহামারী সময়কালীন সাময়িক বিরতি ব্যতীত কয়েক বৎসর ধরে মেজবানির আয়োজন করে আসছে।

মেজবানি অনুষ্ঠানের প্রারম্ভে কো-কনভেনার ড. হুমায়ুন কবিরে সঞ্চালনায় সংক্ষিপ্ত আলোচনা পর্বে সংগঠনের উদ্যোক্তা মোঃ হাসান আমন্ত্রিতদেরকে স্বাগত জানিয়ে ইহার আয়োজন ও উদ্দেশ্য সকলের সমীপে তুলে ধরেন। পরে কনভেনার কামরুল ইসলাম এই বিশাল আয়োজনের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন এবং ইহার সহিত সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানির প্রচলন, গুরুত্ব ও ইহার জনপ্রিয়তা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন কানাডার সাধারণ সম্পাদক শেখ জসিম উদ্দিন। ফাতেহা সহ দোয়া পাঠ করে বিশেষ মোনাজাত করেন মাওলানা আসলাম উদ্দিন আল আনসারী।

মেজবানির চিরাচরিত রেওয়াজ মোতাবক সাদা ভাতের সাথে সুস্বাদু গরুর মাংস ও বুটের ডাল সহ প্রায় দুই সহস্রাধিক অতিথিকে আপ্যায়ন করা হয়। পাশাপাশি অন্যান্য সম্প্রদায়ের জন্য ছিল খাসির মাংস। মশলা কিং রেস্তোরা প্রাঙ্গণে বিশাল এই আয়োজনের রান্না সম্পন্ন করা হয়। দুপুর ১:০০ ঘটিকা থেকে বিকাল ৪:৩০ ঘটিকা পর্যন্ত আমন্ত্রিতদের খাবার পরিবেশন করে এক-ঝাঁক উদ্যমী স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ। সুশৃঙ্খলভাবে সকলে লাইনে দাঁড়িয়ে খাবার সংগ্রহ করে। আমন্ত্রিতদের সকলেই সুস্বাদু খাবার ও বিশাল আয়োজনের প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানের সমাপ্তি লগ্নে আয়োজক মোঃ হাসান পৃষ্ঠপোষকবৃন্দ এবং শ্রম দিয়ে মেজবানির এই আয়োজনকে সফল ও সার্থক করেছেন তাদের সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। আগামীতেও মেজবানির ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি। এই সময় আরও বক্তব্য রাখেন অন্টারিও আওয়ামী লীগের সভাপতিদ্বয় ফাইজুল করিম, নওশের আলী এবং বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি ড. এএমএম তোহা, ফারুক আহমেদ ও এডভোকেট আরিফ রহমান।
যাদের পরিশ্রমে এই আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে তাদের মধ্যে ছিলেন বাবুল পারভেজ, হেলাল, রেজাউল, চিম্ময়, জাহেদ, ইয়াসির, কাদের ও ভিক্টর সহ অনেকেই। -বিজ্ঞপ্তি