1. doorbin24bd@gmail.com : admin2020 :
  2. reduanulhoque11@gmail.com : Reduanul Hoque : Reduanul Hoque
January 20, 2026, 5:25 am

মস্কোয় সন্ত্রাসী হামলা পুতিনের জন্য বড় ধাক্কা

  • প্রকাশিত : রবিবার, মার্চ ২৪, ২০২৪
  • 200 বার পঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: রাশিয়াকে নিরাপত্তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে পঞ্চম দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন। কিন্তু এক সপ্তাহের মধ্যেই তিনি ভয়াবহ এক ঘটনার মুখোমুখি হলেন। মস্কোয় ভয়ংকর সন্ত্রাসী হামলা ও বিশৃঙ্খলার ঘটনা প্রত্যক্ষ করলেন তিনি।

মস্কোর কাছে বিশাল ক্রোকাস সিটি হল কনসার্ট ভেন্যু এবং শপিং কমপ্লেক্সে ভয়াবহ হামলার দায় স্বীকার করেছে ‘ইসলামিক স্টেট খোরাসান’ বা আইএস-কে। এ হামলায় নিহত হয়েছেন ১৩৩ জন। আহত হয়েছেন ১০০ জনের বেশি।

রুশ কর্তৃপক্ষ বলেছে, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে হামলায় অংশ নেওয়া চার অস্ত্রধারীও রয়েছেন। সন্দেহভাজন চারজনকে ইউক্রেন সীমান্তের কাছ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুতিন অভিযোগ করেছেন, ওই চারজন ইউক্রেনে পালানোর পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে এই হামলার সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছে কিয়েভ। কিয়েভের কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে, ইউক্রেনে হামলা বাড়াতে একে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে পারে মস্কো। এদিকে আরও সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কায় রাশিয়াজুড়ে প্রধান পরিবহনকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পাবলিক কনসার্ট এবং ক্রীড়া অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে।

কিন্তু স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার যে আশায় রুশ নাগরিকেরা ভোট দিয়ে পুতিনকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত করেছেন, তার সঙ্গে এর কোনো মিল নেই। দীর্ঘদিন ধরেই পুতিনকে বিশাল ও অশান্ত দেশটিকে শৃঙ্খলার নিশ্চয়তা দিতে সক্ষম একজন নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু পুতিনের গত ২৪ বছরের শাসনামলের মধ্যে এখন রাশিয়াকে সবচেয়ে বেশি অনিরাপদ ও অস্থির মনে হচ্ছে।

ইউক্রেনে ক্রেমলিনের নিষ্ঠুর যুদ্ধ তিন বছরে পড়েছে। এতে রাশিয়ানদের চড়া মূল্য দিতে হয়েছে। দেশটির সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তথ্য প্রকাশ করা হয় না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা, ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার তিন লাখ সেনা হতাহত হয়েছেন।

গত বছর যেসব সেনা যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে, তাঁদের এখনো ফিরিয়ে আনা হয়নি। উদ্বেগে থাকা স্বজনেরা এ নিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছেন। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় রুশ নাগরিকদের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধে পাঠানোর জন্য সেনা সমাবেশের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এদিকে ক্রেমলিন কর্মকর্তাদের ঘুম কেড়ে নিয়েছে ক্রমাগত ইউক্রেনের ড্রোন হামলা ও সীমান্ত এলাকায় ইউক্রেনভিত্তিক সশস্ত্র সেনাদের হামলা।

ইউক্রেনের সঙ্গে লড়াইয়ে রুশ বাহিনী নতুন করে উদ্যোগী হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তবে রুশ কমান্ডারের দুর্বলতা ও অস্ত্রশস্ত্রের দক্ষতা অস্থিতিশীলতার একটি সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত স্রোতকে উসকে দিয়েছে।

গত বছর পুতিনের ভাড়াটে যোদ্ধা সরবরাহকারী বাহিনী ভাগনার গ্রুপের প্রধান ইয়েভগেনি প্রিগোশিনের বিদ্রোহ ও হাইকমান্ডের পদত্যাগ দাবিও ছিল ধাক্কা দেওয়ার মতো। ক্রেমলিন কর্তৃপক্ষের কাছে তা অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা যায়। প্রিগোশিনের রহস্যজনক মৃত্যুতে অবশ্য সে হুমকি চিরতরে দূর হলেও অন্য অসন্তুষ্ট কট্টরপন্থীদের আবির্ভাব দেখা গেছে।

একই ভাবে রাশিয়ার বিরোধী নেতা অ্যালেক্সি নাভালনির মৃত্যুও ক্রেমলিনের সমালোচনা চিরতরে থামিয়ে দিয়েছে। কিন্তু মস্কোয় তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় সমবেত হাজারো মানুষ ও প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের শেষ দিন ‘মিডডে এগেইনস্ট পুতিন’ বিক্ষোভ আয়োজনকারীরা তাঁদের অসন্তোষের কথা জানিয়ে দিয়েছেন।
কনসার্টে হামলা চালিয়ে পালাতে বন্দুকধারীরা এসব গাড়ি ব্যবহার করে বলে রুশ কর্তৃপক্ষ জানায়

কিন্তু এখন রাশিয়াকে মনোযোগ দিতে হচ্ছে বড় ধরনের সন্ত্রাসী হামলার দিকে। এর সঙ্গে ইউক্রেন বা স্থানীয় বিরোধীদের সম্পর্ক নেই। এ নিয়ে মার্চের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা সরকারগুলোর পক্ষ থেকে রাশিয়াকে সতর্ক করা হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের আক্রমণের বিষয়ে তাঁরা রাশিয়াকে কয়েক মাস আগে থেকেই সতর্ক করেছিলেন।

কিন্তু কিছু কারণে পুতিন পশ্চিমাদের এ সতর্কবার্তায় কান দেননি। তিনি তাঁদের এ সতর্কবার্তাকে উসকানি বলে মন্তব্য করেন। রুশ নাগরিকদের ভয় দেখাতে এবং অস্থিতিশীল করতে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল বলে জানান পুতিন।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক এখন ইতিহাসের সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। তাই যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করে না রাশিয়া। এ ছাড়া মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য স্পষ্ট ছিল না বা কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার মতো কিছু ছিল না বলেই তা এড়িয়ে যায় মস্কো।

কিন্তু রাশিয়াকে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া নেতার জন্য দেশের মাটিতে এত বড় সন্ত্রাসী হামলা একটি বড় ধাক্কা।

হামলার সময় কনসার্ট হল থেকে পালানোর চেষ্টাকালে ভবনে থাকা দর্শকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয় বলে জানান বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরা
হামলার সময় কনসার্ট হল থেকে পালানোর চেষ্টাকালে ভবনে থাকা দর্শকদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয় বলে জানান বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিরাছবি: এএফপি

রাশিয়াজুড়ে শোক পালন
মস্কোয় হামলার ঘটনায় আজ রোববার দেশজুড়ে শোক পালন করেছে রাশিয়া। এ উপলক্ষে দেশজুড়ে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়। এ ছাড়া লোকজন ক্রোকাস সিটি হলে ফুল দিয়ে নিহত ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। আহত ব্যক্তিদের জন্য হাসপাতালে রক্ত দিতে গত শনিবার থেকে হাজারো মানুষ জড়ো হন। এদিকে এ ঘটনায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ। রাশিয়ার তদন্তকারী সংস্থা বলছে, উদ্ধারকারীরা এখনো পুড়ে যাওয়া ভবন থেকে মরদেহ উদ্ধারে কাজ করছেন। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলাবিষয়ক মন্ত্রণালয় নিহত ব্যক্তিদের ২৯ জনের পরিচয় প্রকাশ করেছে। শনিবার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি ভিডিও পোস্ট করে বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো সরাতে ও ধ্বংসস্তূপে উদ্ধারকাজ চালাতে ভারী যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট পুতিন ‘বর্বর সন্ত্রাসী হামলা’ চালানো সন্ত্রাসীদের শাস্তি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

শনিবার টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে পুতিন বলেন, ‘যাঁরা প্রিয়জনকে হারিয়েছেন, আমি তাঁদের সবার প্রতি আমার গভীর, আন্তরিক সমবেদনা প্রকাশ করছি। পুরো দেশ এবং জনগণ আপনাদের সঙ্গে শোকাহত।’

সংবাদটি শেয়ার করুন :
এ জাতীয় আরও খবর

পুরাতন খবর

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১  
© All rights reserved © 2024 doorbin24.Com
Theme Customized By Shakil IT Park