যশোর জেলার সদর উপজেলার রুপদিয়া বাজারের গোলাম রসুল জীবনের শঙ্কায় চরম আতঙ্কে বসবাস করছেন। তার জ্ঞাতি স্বজনরা পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে তাকে বঞ্চিত করে সকল জমাজমি জবর দখল ও আত্মসাৎ করতে উঠেপড়ে লেগেছেন।
এরা জোর পূর্বক তার কয়েকটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়েছে। একই সাথে তার দলিল, পড়চা, সহি মহুরির কাগজ, খতিয়ান, মাঠ পড়চা, জরিপ পড়চা ও প্রিন্ট পড়চা কেড়ে নিয়েছে। এসব কাগজ পত্র ফেরত চাওয়ায় তাকে প্রানে মেরে ফেলার প্রকাশ্য হুমকি দিচ্ছে ষড়যন্ত্রকারীরা।
এ বিষয়ে ভূক্তভোগী দিয়েছেন। নম্বর- পিটিশন : ৩৫৫/২২। সকল আসামীকে ১৩ জুলাই আদালতে শরীরে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছেন। তবে তদন্তকারী কর্মকর্তা এখনো তদন্ত রিপোর্ট জমা বা তদন্ত করেনি। বাদী তার অপেক্ষায় পথ চেয়ে রয়েছেন। তবে কি কারনে তিনি অবহেলা করছেন তা কারো বোধগম্য নয়।
১৪ নং নরেন্দ্রপুর ইউনিয়নের রুপদিয়ার মৃত মোজাহার আলীর ৪র্থ পুত্র এই গোলাম রসুল। তিনি এলাকায় গোলাম রসুল বা মাস্টার নামে পরিচিত। জাতীয় পরিচয়পত্র অনুসারে তার জন্ম তারিখ ১২ জুলাই ১৯৬০ সাল। তার পিতা মোজাহার আলী খলিফা ও মাতা আমেনা বেগম। তার আদি বাড়ী যশোর শহর থেকে পূর্বে রুপদিয়ায়।
এই গ্রামের বাজার এলাকায় ১১টি দাগে তার জমাজমির অবস্থান। রুপদিয়া মৌজায় জে এল নং ২২২ খতিয়ান ১১১, ৯ ও ২৪৬। ১১১ খতিয়ানে দাগ নং ২৮৭। ৯ নং খতিয়ানে ২৬৪, ২৬৬ ও ২৬৭ দাগ। ২৪৬ খতিয়ানে ২৬৪, ২৬৬, ২৮৭, ২৮৮, ২৯০, ২৯২, ২৯৪ দাগে তার জমি রয়েছে।
২৬৪, ২৬৬ পুকুর ও ২৬৭ এর ২৯০ শতক জমির মালিক গোলাম রসুলের পিতা মোজাহার আলী খলিফা। এই জমির ওয়ারেশ তিনি ও তার ভাইবোনেরা। দুটি জমি ফারাজ অনুযায়ি ২৬৭ ও ২৬৬ পুকুর অংশে তিনি ৪২ পয়েন্ট ৫০ শতক জমির মালিক।
২৬৪ দাগে ৭০ শতক ২৩ পয়েন্ট জমি তার। ২০২১ সালের ১০ নভেম্বর তার জ্ঞাতি আত্মীয় ১) মোঃ ওহাব খলিফা (৬৩), পিতা- মৃত হোসেন খলিফা ২) মোঃ সুমন হোসেন (৩০) ৩) মোঃ রাকিব হোসেন, উভয় পিতা ওহাব খলিফা ৪) জিয়াউল হক, পিতা- মৃত: আব্দুল কাদের, সর্ব সাং- রুপদিয়া বাজার, থানা- কোতয়ালী, জেলা- যশোর গোলাম রসুল কে বাড়ি থেকে ডেকে বলে জমির কাগজপত্র নিয়ে আয় দেখা হবে কতটুকু জমি পাবি না পাবি। তিনি সরল বিশ্বাসে সকল কাগজপত্র নিয়ে বাড়ি থেকে বের হলে তারা কবরস্থানে দিকে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে তারা তার কাগজপত্র কেড়ে নিয়ে জোর পূর্বক কয়েকটি সাদা লাল সীলমোহর যুক্ত স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। এরা তাকে তার সকল জমি থেকে বঞ্চিত করার ষড়যন্ত্রে বিভোর। আসামিরা ভয়ঙ্কর প্রকৃতির লোক।
এদিকে আদালত ও থানায় অভিযোগ করায় বিবাদীরা বেপরোয়া হয়ে পড়েছেন। তারা তদন্তকর্তা কে হাত করে ফেলেছেন বলে অনুমতি হয়। গত ৬ এপ্রিল ইউপি চেয়ারম্যানের দপ্তরে শালিষে স্বাক্ষরকৃত সেই স্ট্যাম্প কে পূরণ করে পেশ করেছে। বিবাদীরা বাদি ও তার পরিবারের সদস্যদেরকে শালিষের মধ্যেই মারধোর করতে উদ্যত হয়। নরেন্দ্রপুর পুলিশ ফাঁড়ি ইনচার্জ এস আই নাজমুল হাসান। বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে থানা কতৃক নির্ধারিত তদন্তকারী এস আই নাজমুল হাসান। তিনি এখনো কোন উদ্যোগ নেননি। যেমন শালিষে তার নিশ্চুপতায় বিবাদীরা বাদীপক্ষকে অপমান করেছে প্রকাশ্যেই। এই পুলিশ কর্তা কেন তদন্ত
রিপোর্ট দিতে দেরি করছেন তা কারো বোধগম্য হচ্ছেনা। তিন মাস আগে আদালতে মামলা করা হলেও কোন তদন্ত হয়নি।
১৬ দিন আগে বাদী জাতীয় পরিবন শ্রমিক লীগে যশোর জেলা কমিটির মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক গোলাম রসুল কোতয়ালি মডেল থানায় একটি জিডি করেছেন। নম্বর ১৬২৬, তারিখ : ৩১/০৩/২২।
গোলাম রসুল জানান, গত ৩০ জানুয়ারি কাগজপত্র কেড়ে নেওয়া, সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর এবং তাকে হত্যার হুমকি ধামকি দেওয়ায় তিনি উল্লেখিত চার বিবাদির নামে কোতয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ করেছেন। বিষয়টি স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপকভাবে জানাজানি ও আলোচনা সমালোচনা শুরু হলে তারা কিছু কাগজ ফিরিয়ে দিতে ১৬৮০০ টাকা চাঁদা দাবি করেছে। তিনি মনে করছেন আসামিরা কয়েকটি নন জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে এফিটডেফিট সীলযুক্ত সাদা কয়েকটি স্ট্যাম্পে জোর পূর্বক তার স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। বাধ্য হয়ে তিনি থানা আদালতে অভিযোগ করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে আসামিরা তাকে হত্যার হুমকি দেয়। বাধ্য হয়ে তিনি আবারো থানা পুলিশে অভিযোগ করেছেন। তার দুই মেয়ে একপুত্র ও স্ত্রীকে নিয়ে তার পরিবার। তারাও তাকে নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। কেননা আসামিরা তাকে হত্যার হুমকী ধামকি দিচ্ছে এবং তা প্রকাশ্যেই। তার পেশকৃত অভিযোগপত্রটি এখন হাটবিলা পুলিশ ক্যাম্প এর এস আই সুপ্রভাত তদন্ত করছেন।
বিষয়টি তিনি ইউপি চেয়ারম্যান মোদাচ্ছের, মেম্বর রফিক, বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী নুর সর্দার, শফি মুন্সীর পুত্র কাপড় ব্যবসায়ী কুতুব, সিরাজুল ইসলামের পুত্র কাপড় ব্যবসায়ী মুকুল বিষয়টি জানে। স্থানীয়রা জানান, গোলাম রসুল নওয়াপাড়া ও রুপদিয়ায় বসবাস করেন। সহজ সরল মানুষটি জমা জমির মালিক। তিনি দর্জী পেশায় ছিলেন দীর্ঘদিন। মহান মুক্তিযুদ্ধে সহযোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন এই গোলাম রসুল। বীর মুক্তিযোদ্ধা যুদ্ধাহত অভয়নগর মশরহাটীর জালাল ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ওহাব মুন্সীর সহযোগী ছিলেন। এদের কমান্ডার মোশারেফ হোসেন ছিলেন। তবে গোলাম রসুল সার্টিফিকেট নেননি। তিনি একজন ভাল গায়ক। বঙ্গবন্ধু কে নিয়ে তার গাওয়া গান যে কারো মনে রেখাপাত করবে। তবে এই মানুষটি তার জ্ঞাতিদের আপন হতে পারেননি এটাই চরম সত্য।