1. doorbin24bd@gmail.com : admin2020 :
  2. reduanulhoque11@gmail.com : Reduanul Hoque : Reduanul Hoque
July 15, 2024, 3:17 am
সংবাদ শিরোনাম :
‘আমার শপিং বা বেড়ানোর কিছু নেই, তাই তাড়াতাড়ি দেশে চলে আসি’ পানি আটকে রেখেছে ভারত, তারাই তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়ন করুক বাংলা‌দেশ থে‌কে ৩ হাজার কর্মী নে‌বে ইউ‌রো‌পের চার দেশ রাজাকারের নাতিরা সব পাবে, মুক্তিযোদ্ধার নাতিপুতিরা কিছুই পাবে না? ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সহযোগিতার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে চীন’ প্রধানমন্ত্রী তরুণ প্রজন্মের জন্য সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছেন নরেন্দ্র মো‌দির সাক্ষাৎ পে‌লেন হাছান মাহমুদ সর্বজনীন পেনশন প্রত্যয় স্কিম: শিক্ষক আন্দোলন ও বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ জামালপুরে আবারও বাড়ছে পানি, বানভাসিদের দুর্ভোগ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন: ইতিবাচক মনোভাব মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

মা একটা ঘড়ি

  • প্রকাশিত : রবিবার, মে ৯, ২০২১
  • 362 বার পঠিত

জান্নাতুল ফেরদাউস বিনতে হারুন: পরীক্ষা শেষ। বাড়িতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। দীর্ঘদিন বাড়িতে থাকবো বলে সবকিছু গুছাচ্ছিলাম। নোট প্যাডগুলো খুলে দেখছিলাম আমার বর্তমান লেখার কোনো অংশবিশেষ আছে কিনা। যেটাতে দরকারি লেখা থাকে সেটা বাড়িতে যাওয়ার ব্যাগটাতে রাখি। একটা নোটপ্যাড খুলেই প্রথম পৃষ্ঠাতে লেখা দেখি একটা বাক্য “মা একটা ঘড়ি”।

লেখাটা পড়ে কিছুক্ষন ভাবলাম। কবে, কেন, কি কারনে লিখেছি? কিছুই মনে পড়ছে না। তবে বাক্যটা দেখে নিজের মধ্যে একটা ভালোলাগা কাজ করলো। নোটপ্যাডটা খুব সযতনে রাখলাম আমার পড়ার টেবিলে। ভাবনা একটাই এই লেখার কারন আমাকে খুঁজে বের করতেই হবে। বাকি নোটপ্যাডগুলো দেখছিলাম। এরমধ্যেই সেলফোন বেজে ওঠলো। ফোনের স্ক্রীনে ভেসে ওঠলো “মা” শব্দটা। রিসিভ করলাম। সালামের উত্তর নিয়েই মা আমার বলেন “বাবা, ছয় ঘন্টা হতে বেশি বাকি নেই। ঔষধটা খেতে হবেতো। আমি হেসে বললাম “হ্যা মা। আমার ফোনে এলার্ম দিয়ে রেখেছি। আমার কথা শুনে মা হেসে বলে “চাঁদ কোন দিক দিয়ে ওঠলো? আমার মেয়ে এত সচেতন! ঔষধ খাওয়ার জন্য সে এলার্মও দিয়ে রাখে। দুঃখ আমার শেষ। আমার শিশু( শিশু মানে শিশির, মা যখন আমার প্রতি খুশি থাকেন তখন আমাকে শিশু বলে) বড় হয়ে গেছে।” মায়ের সাথে আমিও হাসলাম। কথা শেষ করে ফোন রাখলাম। উত্তর পেয়ে গেলাম “মা একটা ঘড়ি” বাক্যটার।

ডান পায়ে ব্যথা পেয়েছিলাম বলে ডাক্তার আমাকে একসপ্তাহে আঠাশটা এন্টিবায়োটিক ঔষধ খেতে দিয়েছিলেন। প্রতিদিন চারটা। ছয় ঘন্টা পর পর। এই কথা মা জানার পর আমার প্রথম ডোজ ঔষধ খাওয়ার পর থেকে ছয় ঘন্টা হিসেব রাখেন। আর ছয় ঘন্টা হওয়ার কয়েক মিনিট আগেই আমাকে ফোন করে ঔষধের কথা স্মরন করিয়ে দিবেন। আমার মা আমার পড়ালেখার থেকেও আমার ঔষধ খাওয়ার বিষয়ে বেশি সচেতন। আমি মাঝে মধ্যে রাগ করে অনিয়ম করলে মা খুব আদুরে কন্ঠে বলবেন “বাবা, সবকিছুর ওপর রাগ করা যায়। মা, অন্ন, ঔষধ এই তিনটা বিষয়ের সাথে কখনোই রাগ করতে নেই।” মায়ের এই অমীয় বানী পেয়ে আমি কখনোই রাগ করতে পারিনা। একদম মায়ের অনুগত হয়ে যাই শৈশবের মতো।

আরও পড়ুন:

ফেরি দেখলেই ছুটছেন যাত্রীরা

Introduction to Linguistics অনার্স তৃয় বর্ষের এই বিষয়টা আমার কাছে কঠিন মনে হতো। আর এই বিষয়টাতেই ফেল করলাম। নিয়ম অনুযায়ী পরের বছর এই বিষয়ে ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষা ছিল। আমার পরীক্ষার দুই দিন আগে থেকে আমার মায়ের ঘুম শেষ। তার যত চিন্তা এই পরীক্ষাটা নিয়ে। এই কয় দিনে মা আমার সাথে এক মিনিটের বেশি কথা বলেনা। আর ঐ এক মিনিটেই বলেন “বাবা, এটা কিনতু ইমপ্রুভমেন্ট পরীক্ষা। কঠিন বলতে কিছু নেই। একটু বুঝে বুঝে পড় বাবা।”

রাতে অনেক রাত পর্যন্ত পড়ার কারনে ও ভোরবেলা উঠে পড়তে বসায় দশটার দিকে শরীরটা খুব খারাপ লাগছিল। চোখ ঝাপসে যায়। ঘুম আসে। আমি ভাবলাম একটায় পরীক্ষা। বি এম কলেজে যেতে লাগবে পাঁচ মিনিট। গোসল,খাওয়া, রেডি এক ঘন্টায়ই যথেষ্ট। এখন একটা ঘুম দেওয়া যায়।
Hare and Tortoise গল্পের খরগোশের মতো একটা ঘুম দিলাম। আর সময় কচ্ছপের মতো ধীরে ধীরে চলতে লাগতো। মায়ের ফোনে ঘুম ভাঙলো। আমার কন্ঠ শুনেই মা বুঝতে পেরেছে আমি ঘুমে। মা অস্হির হয়ে বলে”বাবা, তুমি এখনো ঘুমে? পরীক্ষা বাবা পরীক্ষা। আমি সকাল থেকে অপেক্ষায় ফোন হাতে লইয়া বইয়া রইছি কখন তুমি ফোন করবা। ওঠো বাবা ওঠো।”

দেখি এগারোটা পঞ্চান্ন বাজে। তাড়াতাড়ি ওঠে রেডি হয়ে এক দৌড়ে পরীক্ষা হলে। হলে গিয়ে দশ মিনিট বিশ্রামও নিলাম। মজার বিষয় হলো ঐ বিষয়েটাতেই আমার রেজাল্টটা বেশি ভালো হয়। আর ঐ দিন এই বাক্যটা লিখেছিলাম “মা একটা ঘড়ি”। এই ঘড়িটা আমার জীবনে অনস্বীকার্য।
শ্রদ্ধা সকল মায়েদের প্রতি। ভালো থাকুক পৃথিবীর সকল মা।
“Happy Mother’s Day”

সংবাদটি শেয়ার করুন :
এ জাতীয় আরও খবর

পুরাতন খবর

শনি রবি সোম মঙ্গল বু বৃহ শুক্র
 
১০১১
১৩১৫১৬১৯
২০২১২২২৩২৪২৫২৬
২৭৩০৩১  
© All rights reserved © 2024 doorbin24.Com
Theme Customized By Shakil IT Park