কিংবদন্তী তারকা দিয়াগো ম্যারডোনার ‘ঈশ্বরের হাত’ খ্যাত গোলের সময় পারিহত বিশ্বকাপ ফুটবলের ঐতিহাসিক জার্সিটি নিলামে ৯৩ লাখ (৯.৩ মিলিয়ন) ডলারে বিক্রি হয়েছে।
১৯৮৬ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই গোল করেছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। ২-১ গোলে জয় পাওয়া ওই ম্যাচে ম্যারাডোনার গোল দুটির একটি ‘ঈশ্বরের হাতের গোল’ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করে। কারণ ম্যারাডোনার ওই গোলটি হেডের গোল হিসেবে পরিগণিত হলেও তিনি এতটাই দ্রুত এবং ক্ষীপ্রতার সঙ্গে ক্যামেরাকে আড়াল করে হাতে ছোঁয়ায় গোলটি করেছিলেন যে তাৎক্ষনিকভাবে কেউ বিষয়টি ধরতে পারেনি। ওই সময় ম্যারাডোনার পরিহিত জার্সিটিই রেকর্ড ৯৩ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছে বলে গতকাল বুধবার জানিয়েছে নিলামকারী সংস্থা সোথবি।
জার্সিটির ক্রেতার নাম উল্লেখ না করে সংস্থাটি জানায়, সাতজন বিডার এই নিলামে অংশ নিয়েছিল। নিলাম কার্যক্রম শুরু হয় ২০ এপ্রিল এবং শেষ হয় বুধবার সকালে। এক বিবৃতিতে সোথবির কর্মকর্তা ব্রাহম ওয়াচার বলেন,‘ ঐতিহাসিক এই জার্সিটি শুধুমাত্র খেলাধুলার ইতিহাসে নয়, বরং বিংশ শতাব্দির একটি গুরুত্বপুর্ন ঘটনার স্মৃতি হয়ে থাকবে।
এটি নিলামে আসা সবচেয়ে লোভনীয় একটি জার্সি, যেটি নিলামে সত্যিকারার্থে রেকর্ড গড়ার মতো বস্তু।’
ম্যাচ শেষে ম্যারাডোনা জার্সিটি বদল করেছিলেন ২-১ গোলে হেরে যাওয়া প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ডের ফুটবলার স্টিভ হজের সঙ্গে। এরপর থেকে জার্সিটি তার কাছেই সংরক্ষিত ছিল। আত্মজীবনীতে হজ জার্সিটির শিরোনাম দিয়েছিলেন,‘ দ্য ম্যান উইথ ম্যারাডোনাস শার্ট’। যেটি তিনি বিগত ২০ বছর ধরে সর্বসাধারণের কাছে প্রদর্শনের জন্য ম্যানচেস্টারের জাতীয় ফুটবল জাদুঘরে ধার দিয়েছিলেন।
ম্যাক্সিকো সিটির অ্যাজটেক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের ওই কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যারাডোনার দেয়া দুই গোলের একটি ‘ক্ষুখ্যাত’ গোলের খ্যাতি লাভ করে। বিরতির পরপর ফ্লিকে উড়ে আসা একটি বল দ্রুততার সঙ্গে ইংল্যান্ডের রক্ষনে ঢুকে তাদের গোল রক্ষক পিটার শিল্টনকে বোকা বানিয়ে জালে জড়িয়ে দেন ম্যারাডোনা। এ সময় রক্ষনে থাকা হজ তাকে প্রতিহত করতে ব্যর্থ হন। পরে ম্যারাডোনা বলেছিলেন, গোলটির অর্ধেক তার মাথা এবং বাকী অর্ধেক ‘ঈশ্বরের হাতের ছোঁয়া লেগে’ হয়েছে।
এর পরপর দৃস্টিনন্দন একটি গোল করেন ম্যারাডোনা। মধ্যমাঠ থেকে বল নিয়ন্ত্রনে নিয়ে ক্ষিপ্রতার সঙ্গে ইংল্যান্ডের ৫ ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোল রক্ষক শিল্টনকে পরাস্ত করেন তিনি। যেটি পরবর্তীতে ফিফা আয়োজিত ভোটে ‘ গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ নির্বাচিত হয়েছিল।