যশোরে নতুন করে শিক্ষক হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন ১০১৪ জন শিক্ষিত বেকার। তারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী
শিক্ষক হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এই ১০১৪ পদে শিক্ষক হতে আবেদন করেছেন ৩৩,২৫৪ জন। আগামী ২২ এপ্রিল প্রথম ধাপের পরীক্ষা।এই পরীক্ষায় অংশ নেবেন ১৭০৩৬ জন। চারটি উপজেলার প্রার্থীরা প্রথম ধাপের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন। বাকিদের পরীক্ষা হবে ঈদের পর।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস থেকে পাওয়া তথ্যানুযায়ী, যশোরে সহকারী শিক্ষকের মোট ১০১৪ টি শূন্যপদ রয়েছে। এর মধ্যে ৪০১টি রাজস্ব খাতে এবং ৬১৩ টি নতুন সৃষ্ট পদ। রাজস্ব খাতের শূন্যপদের মধ্যে অভয়নগরে ৩৩, কেশবপুরে ৩৯, চৌগাছায় ৫৪, ঝিকরগাছায় ২৫, বাঘারপাড়ায় ৪০, মণিরামপুরে ১০৩, শার্শায় ৫০ ও সদর উপজেলায় ৫৭ টি রয়েছে। বাকি পদগুলো নতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সৃষ্টি করেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।
প্রথম দফায় চারটি উপজেলায় সহকারী শিক্ষক পদে পরীক্ষা গ্রহণ করা হবে। এই চারটি উপজেলা হচ্ছে, ঝিকরগাছা, কেশবপুর, মণিরামপুর ও শার্শা। আগামী ২২ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষায় এই চারটি উপজেলা থেকে ১৭০৩৬ জন অংশ গ্রহণ করবে। ২২ টি কেন্দ্রে গ্রহণ করা হবে এই পরীক্ষা।
কেন্দ্রগুলো হচ্ছে, সরকারি সিটি কলেজ, কালেক্টরেট স্কুল, জিলা স্কুল, এমএম কলেজের আব্দুল হাই কলা ভবন, একাডেমিক ভবন, অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ভবন, পুরাতন বিজ্ঞান ভবন ও নতুন বিজ্ঞান ভবন, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ডাক্তার আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজের আলী রেজা রাজু ভবন ও এসএম কামাল উদ্দিন ভবন, মিউনিসিপ্যাল প্রিপারেটরি স্কুল, সরকারি মহিলা কলেজের কলা ভবন ও বিজ্ঞান ভবন, ক্যান্টনমেন্ট কলেজের অনার্স বিল্ডিং, কলা ভবন, পুলিশ লাইন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, শিক্ষাবোর্ড মডেল স্কুল এন্ড কলেজ, যশোর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট-১ ও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট-২। ইতিমধ্যে সকল কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম।
প্রাথমিকের একটি সূত্র জানায়, অন্যান্য বছর সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি হতো যশোরে। এবারই প্রথম এই পরীক্ষার প্রশ্নপত্র কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকায় তৈরি হবে। মহাপরিচালকের ব্যবস্থাপনায় তৈরি করা হবে প্রাথমিকের প্রশ্নপত্র।
যশোরে রাজস্ব খাতে সহকারী শিক্ষকের মোট পদ রয়েছে ৪০৮৯ টি। কর্মরত রয়েছে ৩৮৪৫ জন। নতুন জাতীয়করণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকের মোট পদ রয়েছে ২৫৭১ টি। এই পদে কর্মরত রয়েছেন ২৪১৪ জন। দীর্ঘদিন পর সহস্রাধিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার খবর শুনে কিছুটা হলেও আশার আলো দেখছেন শিক্ষিত বেকার লোকজন। অনেকের বেকারত্বের অভিশাপ ঘুঁচাবে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ অহিদুল আলম জানান, নিয়োগ পরীক্ষার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষা নির্বিঘ্ধসঢ়;ন করতে সব ধরনের ব্যবস্থা রাখা হবে। গত দু’টি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা যশোরে কোনো ধরনের অভিযোগ ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। এবারো যাতে বিন্দুমাত্র কোনো অভিযোগ না ওঠে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।