বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৪তম জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস যথাযোগ্য মর্যাদার সংগে পালন করল টরনটোর বাংলাদেশ কনসুলেট।
২২৩৫ শেফারড এভিনিউ কনসুলেট কার্যালয়ে বাংলাদেশ ও কানাডার জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়।

বঙ্গবন্ধুর জীবনভিততিক প্রামাণ্য ছবি প্রদর্শনের পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবউদদিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা র বাণী পাঠ করেন প্রথম সচিব ফাহমিদা সুলতানা। এরপর বঙ্গবন্ধুর জীবনভিততিক আলোচনায় অংশ নেন আওয়ামীলীগ নেতা আবদুস সালাম, ফায়জুল করিম, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সভাপতি ডঃ হুমায়ুন কবির, বিমান বাংলাদেশ এর কান্ট্রি মেনেজার মেসবাহ উদ্দিন, এসটেশন মেনেজার মুশিকুর রহমান প্রমুখ। বঙ্গবন্ধুর ওপর কবিতা পাঠ করেন ফারাহ আরেফিন।
সবশেষষে জাতীয় শিশু দিবসের চিত্রাংকণ প্রতিযোগিতার পুরষ্কার বিতরণ করেন নবনিযুক্ত কনসাল জেনারেল মোঃ ফারুক হোসেন।

বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশের এগিয়ে চলা, অগ্রযাত্রা সম্পর্কে বলতে গিয়ে কনসাল জেনারেল ফারুক হোসেন বলেছেন, বঙ্গবন্ধু বিবিসির বিবেচনায় শতাব্দীর মহানায়ক। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি। বর্তমান বাংলাদেশের উন্নয়নের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যা উন্নত দেশের সংগে তুলনীয়।
বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, টরন্টোতে ১৭ই মার্চ যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৪তম জন্মবার্ষিকী এবং ‘জাতীয় শিশু দিবস-২০২৪’ উদযাপন করা হয়। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ কনস্যুলেট দিনব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন করে। সকালে বাংলাদেশ হাউসে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচী শুরু হয় এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ নিয়ে শিশুদের চিত্রাঙ্কন ও রচনা প্রতিযোগিতাসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দের অংশগ্রহণে কনস্যুলেট প্রাঙ্গনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান সূচিতে ছিল বাংলাদেশ ও কানাডার জাতীয় সংগীত পরিবেশন, জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুস্পস্তবক অর্পণ, মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রীর বাণী পাঠ, ভিডিও তথ্যচিত্র প্রদর্শন, বক্তব্য উপস্থাপন, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরন ও বিশেষ মোনাজাত । উপস্থিত আমন্ত্রিত বক্তাগণ জাতির এই স্মরণীয় দিনে স্বাধীনতার মহানায়ক, স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি,বঙ্গবন্ধুর শৈশব, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন সুদীর্ঘ রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সংগ্রামী জীবনের উপর আলোকপাত করেন। একইসাথে এ বছরের প্রতিপাদ্য ‘বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ধরে, আনব হাসি সবার ঘরে’ -অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মর্মে আলোচনা করেন।

কনসাল জেনারেল জনাব মোঃ ফারুক হোসেন তাঁর বক্তব্যের শুরুতে বাংলার অবিসংবাদিত নেতা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সকল শিশু কিশোর কে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন ১৯২০ সালের ১৭ই মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার ঐতিহ্যবাহী শেখ পরিবারে বঙ্গবন্ধু জন্মগ্রহন করেন। শৈশবকাল থেকেই ছিলেন নির্ভীক, দয়ালু এবং পরোপকারী। স্কুলে পড়ার সময় থেকেই তাঁর নেতৃত্বের গুনাবলি বিকাশ লাভ করতে থাকে। ধীরে ধীরে তিনি হয়ে উঠেন বাংলার নিপীড়িত মানুষের অধিকার আদায়ের শেষ আশ্রয়স্থল । শিশুদের প্রতি জাতির পিতার ছিল অপরিসীম মমতা। তিনি বিশ্বাস করতেন এই শিশুরাই তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। তিনি আরও বলেন,মহান নেতার জীবন ও আদর্শ অনুসরণে এ দেশের শিশুদের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
সর্বশেষে জাতির পিতার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে, আগামী দিনের কর্ণধার শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ ও দেশের সর্বাঙ্গীণ মঙ্গল কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।