মোশাররফ হোসেন: বেদনা মধুর হয়ে যায়, তুমি যদি দাও..।জনপ্রিয় রবীন্দ্র সংগীত সাধক ও সুরকার সাদি মহম্মদ আর নেই।(ইননালিলাহে …রাজিউন)।
টরনটোতে নিজের কাজ শেষে ঘরে ফেরার পর এ সংবাদ টিভিতে দেখে আমি বেদনায় নীল হবার মত অবস্থা।
বুধবার সন্ধ্যার পর সংগীত সাধনা কক্ষে তাকে আবিষ্কার করা হয় ঝুলন্ত অবস্থায়। এ খবরে সংগীত জগত শুধু নয়, বাংলাদেশ ও ভারতের বাংলাতেও ন্য় যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা , ইউরোপ জুড়ে সাংস্কৃতিক জগত মর্মাহত।
ঢাকার মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডের বাড়িতে ১৯৭১সালের ২৩ মার্চ বাংলাদেশের লাল সবুজ পতাকা উড়িয়ে ছিলেন সাদি ও শিবলির বাবা বঙ্গবন্ধুর সহচর ও আওয়ামী লীগ নেতা সলিমুললাহ। ২৬ মার্চ মোহাম্মদপুরের অবাঙালিরা তার বাড়িতে আগুন দিয়েছিল। পরে মুক্তিযুদ্ধের শহীদ হিসেবে তার নামে মোহাম্মদপুরের সলিমুললাহ রোড।
এরপর মা জেবুননেসার পরিচর্যাতে সাদি রবীন্দ্র সঙ্গীতের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। বিশ্বভারতীর গান শেখের শান্তিদেব ও কনিকা বন্দোপাধ্যায়ের কাছে।
তার সংগীতের এলবাম, আমাকে খুজে পাবে ভোরের শিশিরে (২০০৭), শ্রাবণ আকা শ(২০০৯), সার্থক জন্ম আমার (২০১২)। ২০২০সালে বাংলা একাডেমীর রবীন্দ্র সঙ্গীতের পুরস্কার পান।
মুলত গত জুলাই মাসে তার মা জেবুননেসার মৃত্যুর পর থেকেই সাদি অবসাদ ভুগছিলেন বলে ফোনে জানিয়েছেন ছোট ভাই নৃত্য শিলপী শিবলি মহম্মদ ও শামীম আরা নিপা। বললেন, তানপুরা নিয়ে চর্চার আড়ালে মা হারানোর বেদনা সাদি ভাই কাটিয়ে উঠতে পারেননি। মানসিকভাবে ভেংগে পড়েন।
রবীন্দ্র সংগীতকে তিনি বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় করেছেন। তার গায়কী এনে দিয়েছে নতুন মাত্রা। মানুষ তার গানে মুগ্ধও সমমোহিত।
সাধারণে অসাধারণ সাদি মহম্মদ মৃত্যুর সময় বয়স ছিল ৬৯বছর। আজ তাজমহল রোডের মসজিদে জানাজা শেষে মোহাম্মদপুরের কবরসথানে তাকে দাফন করা হবে বলে তার ভাই শিউলি জানিয়েছেন।