1. doorbin24bd@gmail.com : admin2020 :
  2. reduanulhoque11@gmail.com : Reduanul Hoque : Reduanul Hoque
January 20, 2026, 6:01 am

অর্থনীতিকে গতিশীল ও চাঙা করার পরিকল্পনা জানালেন অর্থমন্ত্রী

  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, মে ৯, ২০২৪
  • 177 বার পঠিত

# দ্বাদশ সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: করোনার পর থেকেই দেশের অর্থনীতি পথ হারিয়েছে। যার প্রভাবে প্রায় ৫০ বিলিয়নের রিজার্ভ কমে বর্তমানে ২০ বিলিয়নে ঠেকেছে। তবে রেমিট্যান্সসহ রপ্তানি আয়ে দেশের অর্থনীতি বর্তমানে স্থিতিশীল আছে। এই পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল ও চাঙ্গা করার নানান পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

বৃহস্পতিবার (৯ মে) জাতীয় সংসদে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী।

অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল ও চাঙা করার লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা রয়েছে। অর্থনীতিকে গতিশীল করার লক্ষ্যে ধারাবাহিকভাবে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হচ্ছে। ২০০৫-০৬ অর্থবছরে সরকারের বাজেটের আকার ছিল ৬৪ হাজার কোটি টাকা যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ ১৪ হাজার ৪১৮ কোটি টাকায়। আগামী অর্থবছরেও বিনিয়োগ, উৎপাদনমুখী ও প্রবৃদ্ধি সহায়ক বাজেট ঘোষণা করা হবে।

আট খাতকে গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে
তিনি বলেন, সরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি সহায়ক খাতসমূহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বিশেষ করে, ভৌত ও সামাজিক অবকাঠামো খাতসমূহ যেমন বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবহন, যোগাযোগ, বন্দর উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আইসিটি খাতকে অধিকতর গুরুত্ব প্রদান করে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করবে। বিগত ১৫ বছরে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে যা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। বিবিএসের হিসাব অনুযায়ী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে মোট বিনিয়োগ জিডিপির ৩৩.১৫ শতাংশ হয়েছে, যার মধ্যে সরকারি বিনিয়োগ ৬.২০ শতাংশ।

উন্নয়ন খাতের বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে
দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল ও চাঙা করার অন্যতম উপায় হলো উন্নয়ন খাতে বরাদ্দ। সরকার ধারাবাহিকভাবে উন্নয়নখাতে বরাদ্দ বৃদ্ধিও অব্যাহত রেখেছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির মোট বরাদ্দের পরিমাণ ছিল ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা যা ৯.৬ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা বলে জানান আবুল হাসান মাহমুদ আলী।

সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করব
মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এফডিআই বৃদ্ধির মাধ্যমে বৃহৎ শিল্প কারখানা স্থাপন ও এ খাতে উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ প্রতিষ্ঠানগুলো ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠান নিবিড়ভাবে কাজ করছে। এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বেজা দেশের বিভিন্ন স্থানে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এছাড়া বিনিয়োগকারীদের সব সেবা সময়াবদ্ধ ও স্বচ্ছ উপায়ে এবং একটি ডিজিটাল ইন্টার-অপারেবল প্ল্যাটফর্ম থেকে দেওয়ার লক্ষ্যে বিডা অনলাইনভিত্তিক ওয়ান স্টপ সার্ভিস পোর্টালের কার্যক্রম চালু করেছে। উক্ত পোর্টালের মাধ্যমে বিভিন্ন সেবা প্রদানকারী সংস্থার প্রায় ১৫০টিরও বেশি সেবা দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বর্তমানে বিডাসহ ৩৮টি প্রতিষ্ঠানের ১১৫টি সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের উপযোগী কর্মজগত তৈরি করার মাধ্যমে অর্থনীতিতে গতি সঞ্চারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে আইটি ফ্রিল্যান্সিং, সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার শিল্প, বিপিও, ই-কমার্স, রাইড শেয়ারিং, ফিনটেক, এডুটেক, ইন্টারনেট সার্ভিস খাতে ২০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা হয়েছে, যা ২০২৫ সাল নাগাদ ৩০ লাখে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রায় ৫ লাখ লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে চট্টগ্রামের অদূরে ‌‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর’ এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করা হয়েছে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণসহ কর্মসংস্থান সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ডাটাবেজ তৈরির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ ডাটাবেজের মাধ্যমে বর্তমান ও ভবিষ্যতের শ্রম বাজারের চাহিদা অনুসারে কর্মপ্রত্যাশী ও কর্মসংস্থানকারীর মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা হবে এবং কর্মসংস্থানের বিষয়ে সহায়তা দেওয়া হবে। পাশাপাশি, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ প্রদান এবং প্রশিক্ষিত যুবক ও যুব মহিলাদের ক্ষুদ্রঋণ-ভিত্তিক আত্মকর্মসংস্থান কার্যক্রমের চলমান ধারা অব্যাহত থাকবে।

এছাড়া, বাংলাদেশে তথ্য প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ ১০৯টি হাই-টেক পার্ক/সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্ক/আইটি ট্রেনিং অ্যান্ড ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি তারা আইটি ইন্ডাস্ট্রির জনবলের চাহিদা বিবেচনা করে আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে ৬০ হাজার ৬৮০ জন এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ১ লাখ তরুণ-তরুণীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে ৩৭ হাজার ৮০০ জনের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে। ১৫১টির অধিক স্টার্টআপকে ১ বছর মেয়াদি ইনকিউবেশন সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

প্রবাস আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ ও গতিশীল করতে পদক্ষেপ
আবুল হাসান মাহমুদ আলী জানান, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, নিরাপদ অভিবাসন, অভিবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে আইনি কাঠামো যুগোপযোগীকরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কার্যকর অংশগ্রহণ ও দেশের বর্ধিত শিল্প ও সেবাখাতের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে শ্রমবাজারের চাহিদাভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। রেমিট্যান্স প্রেরণে বর্ধিত ব্যয় লাঘব করা এবং বৈধপথে অর্থ প্রেরণ উৎসাহিত করতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো অর্থের ওপর ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছিল, যা বিগত ১ জানুয়ারি ২০২২ থেকে বর্ধিত করে ২.৫ শতাংশ করা হয়েছে।

সরকারের বেশকিছু মধ্যমেয়াদি সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে
তিনি জানান, রাজস্ব আয়ে গতি আনার লক্ষ্যে কর নীতি এবং রাজস্ব প্রশাসনে যুগপৎ সংস্কার সাধন করা হবে। এ প্রক্রিয়ায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আহরণের পরিমাণ জিডিপি’র শতাংশে ২০২২-২৩ অর্থবছরের পর্যায় থেকে ১.৭ শতাংশ বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ভর্তুকি যৌক্তিকীকরণের পাশাপাশি সরকারি ঋণের ব্যয় হ্রাস এবং সার্বিকভাবে ঋণ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করা হবে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মধ্যে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ গ্রহণের পরিমাণ সরকারের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে গৃহীত মোট ঋণের এক চতুর্থাংশের মধ্যে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
এ জাতীয় আরও খবর

পুরাতন খবর

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩
২৪২৫২৬২৭৩০
৩১  
© All rights reserved © 2024 doorbin24.Com
Theme Customized By Shakil IT Park