না, আমি একটুও অবাক হইনি। আপনার এই আমূল বদলে যাওয়া মুখটি আমাকে একটুও অবাক করেনি। সবিনয়ে বলি, হাজার বছর ধরে আমি আপনাকে চিনি। তবে স্মৃতি আজকাল খুব প্রতারণা করে। হয়ত-বা বয়সের দোষ!
চর্যার কবিদের আড্ডায় আপনি ছিলেন প্রিয় প্রসঙ্গ। আরাকান রাজসভার কবিরাও ভালোই চিনতেন আপনাকে। (কী সৌভাগ্য আমাদের!) বঙ্গীয় বদ্বীপে আপনার জন্ম, খ্যাতি বিশ্বব্যাপী। দিগ্বিজয়ে মসলিন ছিল আপনার সহযাত্রী, আর কত দ্রুতই না তাকেও ছাপিয়ে উঠেছিলেন আপনি। কেননা সাধুর বাজারে দুধের চেয়ে মদের দাপটই অধিক।
যতদূর মনে পড়ে, আপনার কথা আমাকে প্রথম বলেছিলেন বিদ্যাসাগর। সোজাসাপ্টা মানুষ, আপনার বুজরুকি দেখে খুব ঘাবড়ে গিয়েছিলেন। সামলেও নিয়েছিলেন দ্রুত। প্রতিক্ষণ আপনার অযাচিত গালমন্দ শুনে স্মিত হেসে বলেছিলেন, ‘আমি তো ওঁর কোনো উপকার করিনি…!’
রবীন্দ্রনাথ ভারি ব্যস্ত মানুষ। আর কী আশ্চর্য, অবিরাম বিষ্ঠাবর্ষণেও ধ্যানভ্রষ্ট নন যে-ঋষি, নিজ গুণে তাঁরও মনোযোগ কেড়ে নিতে সক্ষম হয়েছিলেন আপনি! আপনার মাহাত্ম্য কীর্তন করে কবিগুরু লিখেছেনও ঢের। বলেছেন, ‘সাত কোটি সন্তানেরে, হে মুগ্ধ জননী, রেখেছ বাঙালি ক’রে, মানুষ কর নি।’
আর ওই যে গোপালগঞ্জের অসুশীল মানুষটি- যাঁকে নিয়ে বড়োই বিব্রত আপনারা-তিনিও জানতেন আপনার নাড়ির খবর। দীর্ঘ পদবন্দনা শেষে আপনি যখন তাঁর বুকে বন্দুক তাক করেছিলেন তিনি একটুও অবাক হননি। কেননা তিনি জানতেন, আপনার প্রকৃত পরিচয়
আমি সামান্য মানুষ। আপনি তো রূপের সাগর; আমি তার কতটুকুই-বা জানি!