লিখেছেন: মিনার মনসুর
মাঠটি ভাবেনি তাকে নিয়ে এত কিছু হবে!
তিনি আসবেন-
বঞ্চনার দীর্ঘতম শীতে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া বৃক্ষেরা
যথারীতি জয়ধ্বনি দেবে;
পলাশ-শিমুল তার রক্তরাঙা বুকে
উড়াবে ফেস্টুন তপ্ত রেসকোর্স জুড়ে।
মাঠটি দেখবে; যদিও হৃদয়ে তার অবিরাম
দুর্বিনীত অশ্বক্ষুরধ্বনি- তবু অজ্ঞাত কারণে
এইক্ষণে বুক তার ভওে আছে গুপ্ত এক জলের সুঘ্রাণে।
শত চৈত্রের চাবুকে দগ্ধ বিক্ষত মাঠটি ভাবে:
এই পোড়া মাঠে কোথা থেকে আসে এমন সুঘ্রাণ?
হানাদার শকুন গর্জন কওে মাথার ওপরে;
ইস্পাতের শিং উঁচিয়ে ধেয়ে আসে গন্ডারের পাল।
সব রক্তফাঁদ গলে সহস্র কৃষ্ণবিবর দৃপ্ত পায়ে দলে
নুহের জলোচ্ছ্বাসের মতো তারা আসে-
তারা আসে, তারা আসে, আসতেই থাকে।
গন্ডার জানতে চায়: কেন তারা আসে? তারা আসে-
কেননা তাদেও ভাঙা বুক, বিদীর্ণ পাঁজর, পায়েও শৃঙ্খল।
মহাপরাক্রান্ত ইতিহাস কেন আজ
হাঁসফাঁস করে এই জরাজীর্ণ মাঠে?
কে দেবে উত্তর তার-যখন গলদঘর্ম ভবিতব্য স্বয়ং।
তিনি আসলেন।
বললেন: ‘দাবায়া রাখতে পারবানা’;
মুহূর্তে বদলে গেল সব।
ভাঙা বুক হয়ে গেল বঙ্গোপসাগর।
বিদীর্ণ পাঁজর থেকে পায়রার মতো উড়তে থাকল
অনিঃশেষ আলোর ফোয়ারা।
আতশবাজির মতো সব আকাশ রাঙিয়ে বাতাস বাজিয়ে
আশ্চর্য মধুর শব্দে ভেঙে পড়ল পদশৃঙ্খল।
ইতিহাস তার মুক্ত দু’হাত বাড়িয়ে দেয় বিহ্বল উদ্যানটির দিকে।
মাঠটি ভাবেনি তাকে নিয়ে এত কিছু হবে!