ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় ভলিবল খেলোয়াড় এবাদত। টেস্টের দলে জায়গা পাওয়া নিয়েই যাকে সইতে হয়েছে সমালোচনা, আজ সেই এবাদত হোসেনই ইতিহাসের নায়ক। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে বাংলাদেশের মহাকাব্যিক টেস্ট জয়ের মূল চরিত্র এখন সিলেটের এই পেসার। দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৬ রানে ৬ উইকেট নিয়ে একাই গুঁড়িয়ে দিয়েছেন বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নদের দম্ভ। সঙ্গে রেকর্ডবুকের অনেক পাতায় নিজের নাম লিখেছেন এবাদত।
এর চেয়ে বড় জবাব আর কী হতে পারে? সব সমালোচনাকে একপাশে রেখে, এই ছেলেটা এখন নিউজিল্যান্ডবধে বাংলাদেশ মহাকাব্যের নায়ক। দু’দিন আগেও যার সমালোচনায় মুখর ছিল সমর্থকরা। আজ তার স্তুতিবাক্যে ভাসছে পুরো অন্তর্জাল। এবাদতের কৃতিত্ব যে হাসি ফুটিয়েছে না ঘুমানো লাখো সমর্থকের চোখে-মুখে।
জীবনের শুরুতে ছিলেন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর একজন সৈনিক। সেখানেই ভলিবলে হাতে কোর্ট মাতাতেন এবাদত। পরে রবি পেসার হান্টের মাধ্যমে নিজের গতি আর উচ্চতা কাজে লাগিয়ে চলে আসেন বাংলাদেশ জাতীয় দলের নেটে। এরপর তৎকালীন কোচদের পছন্দে পেয়ে যান লাল সবুজের ক্যাপ। কিন্তু নামের সঙ্গে কখনোই সুবিচার করতে পারেননি এ পেসার।
বে ওভালে নামার আগে লজ্জার এক রেকর্ড সঙ্গী ছিল তার দখলে। সবচেয়ে বাজে অ্যাভারেজের টেস্ট বোলারদের তালিকায় এবাদতের নামটা ছিল ওপরের দিকেই। তার ওপর আবার দলের বাইরে থাকা পেসার রাহীর পারফরম্যান্স আগুনে ঘি ঢালে সেই সমালোচনায়। প্রথম ইনিংসের অগোছালো বোলিং পালে হাওয়া দেয় আরও জোরে।
কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে কি যেন হয়ে যায় এবাদতের। কোনো অজানা এক ম্যাজিকে তার লাইন লেংথ, সুইংগুলো হয়ে উঠে আনপ্লেয়েবল। তার আগুনে গোলায় জ্বলেপুরে ছাড়খার হয় ব্ল্যাকক্যাপদের ব্যাটিং লাইনআপ। ১১ বছরে যা পারেনি ভারত-পাকিস্তান-শ্রীলঙ্কা, এবাদতের কল্যাণে সে রেকর্ডটাও দখলে নেয় টিম বাংলাদেশ।
শেষ দিনে কিউইদের ৫ উইকেট হাতে থাকলেও তা অপর্যাপ্ত হয়ে যায় এবাদতের সামনে। তার রিভার্স আর ইনসুইংগুলোর কোনো জবাবই জানা ছিল না স্বাগতিক ব্যাটারদের। ইয়ং, কনওয়ে, নিকোলস, ব্লান্ডনেল, টেলর, জেমিসনরা একে একে সবাই প্রত্যক্ষ করেন বাংলাদেশি এক পেসারের দুরন্ত স্যালুট।
মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে ৪৬ রানে ৬ উইকেট নিয়ে বেশ কয়েকটি রেকর্ড বুকের পাতায় ঝড় তুলেছেন এবাদত। দেশের বাইরে বাংলাদেশি বোলারদের মধ্যে দ্বিতীয় সেরা বোলিং ফিগার এখন এই পেসারের। কিংস্টনে সাকিব আল হাসানের ৩৩ রানে ৬ উইকেটের পরই জায়গা করে নিয়েছে এবাদতের স্পেল।
সব বোলারদের মধ্যে দ্বিতীয় হলেও পেসারদের তালিকায় আবার শীর্ষে উঠে এসেছেন এবাদত। শাহাদাতের ২০১০ লর্ডস এবং রবিউলের ২০১৩ এর হারারে’কে পেছনে ফেলে এক নম্বরে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের বে ওভাল।
টেস্টে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এতদিন বাংলাদেশি বোলারদের সেরা সাফল্য বলতে ছিল শুধুই স্পিনারদের গল্পগাথা। সেখানেও ভাগ বসিয়েছেন এবাদত। সাকিব আর সোহাগ গাজীর মাঝে দ্বিতীয় জায়গাটা এখন তরুণ এই পেসারের দখলে।
এই এক বোলিং ফিগার এবাদতকে নিয়ে এসেছে বিশ্ব সেরাদের তালিকাতেও। এশিয়ান পেসারদের মধ্যে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ওয়াসিম আকরাম এবং শোয়েব আক্তারের পর এখন থেকে উচ্চারিত হবে একজন বাংলাদেশি পেসারের নাম, এবাদত হোসেন।