মহান বিজয় দিবস ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে রাজধানীতে বর্ণাঢ্য বিজয় শোভাযাত্রা করেছে বিএনপি। নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে কাকরাইল, শান্তিনগর মোড় ঘুরে ফকিরাপুল হয়ে আবার কার্যালয়ের সামনেই শেষ হয়। এই বিজয় শোভাযাত্রাটি পরিণত হয়েছিল খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে উজ্জীবিত মিছিলে। খালেদা জিয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পরিস্থিতি তুলে ধরতে একজন নারী ‘প্রতীকী’ভাবে মিনি ট্রাকে সিসিইউ দৃশ্যপট প্রদর্শন করেন।
শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া নেতাকর্মীদের মাথায় ছিল লাল-সবুজ ক্যাপ, হাতে ছিল জাতীয় পতাকা এবং বিএনপির দলীয় পতাকা। অনেক নেতাকর্মীর গায়ে ছিল কালো কাপড়, গলায় ছিল প্রতীকী শিকল। শোভাযাত্রার সামনের দিকে খালেদা জিয়া, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিশালাকৃতির ছবি বহন করা হয়। নেতাকর্মীরা খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড বহন করেন। পিকআপ ভ্যান থেকে বিএনপির দলীয় সংগীত ‘প্রথম বাংলাদেশ আমার শেষ বাংলাদেশ’ গানটি বাজানো হয়। নেতাকর্মীরা ‘স্বাধীনতার অপর নাম, জিয়াউর রহমান’, ‘মুক্তি মুক্তি চাই, খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই’, ইত্যাদি স্লোগান দেন।
বেলা আড়াইটার পর নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে অস্থায়ী মঞ্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর পর কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শোভাযাত্রা শুরু হয়। বিকাল ৪টার কিছুক্ষণ পর এটি শেষ হয়।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আজকের বিজয় র্যালির মধ্য দিয়ে আমাদের বিজয়ের যাত্রা শুরু হলো। শেখ হাসিনাকে বিদায় করে আমরা জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করব। আজকে লাখো মানুষের অংশগ্রহণের এই র্যালি প্রমাণ করেছে দেশের মানুষ বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি চায়। দেশের মানুষ দেখতে চায়, অবিলম্বে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে প্রেরণ করা হচ্ছে। দেশের মানুষ তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে চায়।’ তিনি বলেন, ‘আজকের র্যালি প্রমাণ করেছে দেশের মানুষ গণতন্ত্র চায়, কথা বলতে চায়, মুক্তভাবে স্বাধীনতা ভোগ করতে চায়। গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা পুনরুদ্ধারের জন্য শেষ বিন্দু রক্ত দিয়ে সংগ্রাম করব আমরা।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরা ভারাক্রান্ত মনে বিজয় শোভাযাত্রা করছি, যখন একাত্তরের প্রথম মহিলা মুক্তিযোদ্ধা, দেশের সাবেক নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন।’
শোভাযাত্রায় অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমদ, বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আযম খান, আমানউল্লাহ আমান, আব্দুস সালাম, শামা ওবায়েদ, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, সাইফুল আলম নীরব, সুলতান সালাউদ্দীন টুকু, মোস্তাফিজুর রহমান, আব্দুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, কৃষিবিদ হাসান জাফির তুহিন, শহীদুল ইসলাম বাবুল, ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল, আফরোজা আব্বাস প্রমুখ। শোভাযাত্রায় ঢাকা মহানগর বিএনপি, ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, তাঁতী দল, কৃষক দল ও ওলামা দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন। শোভাযাত্রার সামনের অংশে ছিলেন মহিলা দলের নেত্রীরা। সংগঠনটির নেতাকর্মীদের পরনে ছিল লাল-সবুজ শাড়ি। শেষ অংশের নেতৃত্বে ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেন। শোভাযাত্রা চলাকালে সড়কের দুই পাশেই যান চলাচল বন্ধ ছিল। এতে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়। যানবাহন না পেয়ে অনেক পথচারীকে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়।