1. doorbin24bd@gmail.com : admin2020 :
  2. reduanulhoque11@gmail.com : Reduanul Hoque : Reduanul Hoque
August 11, 2026, 8:59 am
সংবাদ শিরোনাম :
মিস-ইনফরমেশন ও ডিস-ইনফরমেশন মোকাবিলায় ডিসিদের নির্দেশনা শিগগিরই ১০ম ওয়েজবোর্ড গঠন, প্রকৃত সাংবাদিকদের তালিকা করতে ডাটাবেজ হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী এসো হে বৈশাখ, এসো এসো প্রতিটি গণমাধ্যমকে ফ্যাক্ট চেকিং নিশ্চিত করে সংবাদ প্রচার করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী সাধুর বাজারে—-মিনার মনসুর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ১০৭তম জন্মদিন আজ দূরবীণ ২৪.কম এর ৭ম জন্মদিন আজ ‘সরকার প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে চায়’ হাজারো শহীদের রক্তে ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে “দ্রোহী কথাসাহিত্যিক আব্দুর রউফ চৌধুরী সাহিত্য পদক ২০২৬” পাচ্ছেন রফিকুর রশীদ ও আকিমুন রহমান

যোগসাজশে বোতলজাত পানির দাম বৃদ্ধি, ৭ কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা

  • প্রকাশিত : Sunday, September 15, 2024
  • 200 বার পঠিত

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক: খরচ বাড়ার অজুহাত দেখিয়ে যোগসাজশের মাধ্যমে বোতলজাত পানির দাম বাড়িয়েছে দেশের নামিদামি প্রতিষ্ঠানগুলো। ভোক্তার পকেট কেটে লুটে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকার মুনাফা। আধা লিটারের বোতলজাত পানির দাম বাড়িয়ে ৪২০ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা করছে প্রতিষ্ঠানগুলো। অনুসন্ধানে যার প্রমাণ পেয়েছে সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশন (বিসিসি)

এসব অপরাধে প্রভাবশালী ৭ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে বিসিসি। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো, কোকাকোলা বাংলাদেশ বেভারেজ লিমিটেড, ট্রান্সকম বেভারেজ, মেঘনা বেভারেজ, পারটেক্স বেভারেজ, রুপসী ফুডস (সিটি গ্রুপ), আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ এবং প্রাণ বেভারেজ লিমিটেড।

কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রতিযোগিতা কমিশনের সদস্য মো. হাফিজুর রহমান। তিনি  বলেন, অনুসন্ধান করে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেরা যোগসাজশ করে পানির দাম বাড়িয়েছে। তারা এক সঙ্গে আধা লিটার বোতলজাত পানির ২০ টাকা করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো বিক্রেতাদের কাছে আধা লিটার পানির বোতল ১০ টাকায় দিচ্ছে আর বিক্রেতারা খুচরা ২০ টাকায় বিক্রি করছেন। এতে করে তাদের ১০ টাকা লাভ হচ্ছে প্রতি বোতলে। যেসব উৎপাদনকারী কম দামে বিক্রি করতে চাচ্ছে তারা বাজারে টিকতে পারছে না।

তিনি জানান, প্রত্যেকটা পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক বাজার দরকার। কয়েকটি প্রতিষ্ঠান মিলে যোগসাজশ করে দাম নির্ধারণ করতে পারে না। কিন্তু বোতলজাত পানির ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলো আইন পরিপন্থি কাজ করেছে এ জন্য তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। চলতি মাসের ১৮ তারিখে মামলার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

বোতলজাত পানি নিয়ে অনুসন্ধান করে কমিশন জানায়, বোতলজাত পানির উৎপাদন ও সরবরাহকারী প্রথম সারির কোম্পানিগুলো ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে হঠাৎ করে আধা লিটার পানির বোতলের দাম ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ টাকা নির্ধারণ করে। এই দাম বাড়ানোর কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠানগুলো জানায় ডলার ও কাঁচামালের বেড়ে যাওয়ায় আমদানি খরচ বেড়েছে।

তবে কোম্পানিগুলোর উৎপাদন খরচ বিশ্লেষণ করলে বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। কমিশন দেখতে পায়, নামমাত্র উৎপাদন খরচ বাড়লেও দাম বাড়ানোর মাধ্যমে একেকটি  কোম্পানির মুনাফা বেড়েছে ৭১.২৩ শতাংশ থেকে ৪২০ শতাংশ পর্যন্ত। অতি মাত্রায় মুনাফা বেড়েছে সরবরাহকারী ও খুচরা বিক্রেতারও।

ঢাকা ওয়াসাসহ মোট ৮ কোম্পানির উৎপাদন খরচ অনুসন্ধান করে কমিশন। এর মধ্যে ওয়াসা ছাড়া বাকি ৭টি কোম্পানির বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছে।

অনুসন্ধান প্রতিবেদনের বলা হয়, পানির দাম বাড়িয়ে যেসব কোম্পানি অতিরিক্ত মুনাফা করেছে, তাদের অন্যতম অকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ। প্রতিষ্ঠানটি স্পা ব্র্যান্ড নেমের অধীনে আধা লিটার পানির দাম ৫ টাকা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ৪২০ শতাংশ মুনাফা করেছে বলে অনুসন্ধানে ওঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানের ১৮.৩৩ শতাংশ উৎপাদন খরচ ও ভ্যাট-ট্যাক্স এর কারণে ৩১.৭৮ শতাংশ খরচ হলেও কোম্পানির মুনাফা বেড়েছে ৪২০ শতাংশ। দাম বৃদ্ধির আগে আকিজের আধা লিটার পানি বিক্রি করে খুচরা বিক্রেতা লাভ পেতেন ৫.৬২ টাকা যা দাম বাড়ার পর যা ৯ টাকা হয়েছে।

একইভাবে, কোকাকোলার কিনলে ব্র্যান্ডেড ৫০০ মি.লি. বোতলজাত পানির উৎপাদন খরচ বেড়েছে ১.৬২৪ টাকা, যা শতাংশের হিসেবে ২৭.৬৭ শতাংশ এবং ভ্যাট-ট্যাক্স ও সাপ্লিমেন্টারি ডিউটি ৩৩.৮৫ শতাংশ বেড়েছে। ৫ টাকা মূল্যবৃদ্ধির মাধ্যমে কোম্পানি তাদের মুনাফা বাড়িয়েছে ২১১.৬২ শতাংশ। এতে ডিস্ট্রিবিউটর পর্যায়ে মুনাফা বেড়েছে ৩০.১৩ শতাংশ এবং খুচরা পর্যায়ে বেড়েছে ২৬.৯৮ শতাংশ।

কিনলের আধা লিটারের একটি পানির বোতল ১৫ টাকা বিক্রি করে খুচরা বিক্রেতা আগে ৬.৬৭ টাকা মুনাফা করতেন, এখন সেটির দাম ৫ টাকা বাড়ানোর পর মুনাফা করছেন ৮.৪৭ টাকা। ট্রান্সকম বেভারেজের মুনাফা ৭১.২৩ শতাংশ এবং মেঘনা বেভারেজ লিমিটেডের মুনাফা ১৭৭.৭৮ শতাংশ বেড়েছে বলে ওঠে এসেছে তদন্তে।

কমিশনের পর্যবেক্ষণ বলছে, সিটি গ্রুপ অপর্যাপ্ত তথ্য দেওয়ায় ও প্রাণ কোন প্রকার তথ্য সরবরাহ না করায় তাদের মুনাফার পরিমাণ বিশ্লেষণ করা যায়নি।

পারটেক্স বেভারেজ পানির দাম বাড়িয়ে ডিস্ট্রিবিউটর ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন বাড়ালেও কোম্পানির মুনাফা বাড়ায়নি।

এছাড়া, ঢাকা ওয়াসার শান্তি ব্র্যান্ডের পনির উৎপাদন খরচ বাড়েনি এবং তারা প্রতিষ্ঠানের, ডিস্ট্রিবিউটর এবং খুচরা বিক্রেতার কমিশনও বাড়ানি। এতে করে অবশ্য প্রতিষ্ঠানটি ব্যবসায় ধাক্কাও খাচ্ছে। ১৫ টাকায় পানি বিক্রি করে লাভ কম হওয়ায় তাদের পানি খুচরা বিক্রেতারা দোকানে রাখতে চান না বলে জানা গেছে।

 

সংবাদটি শেয়ার করুন :
এ জাতীয় আরও খবর
© All rights reserved © 2024 doorbin24.Com
Theme Customized By Shakil IT Park