যশোরে আগাম সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। নানা রকমের সবজি বাজারজাতে চাষিরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। দামও বেশি পাওয়ায় চাষিদের মুখে চওড়া হাসি। এখানকার উৎপাদিত সবজি স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে দেশর বিভিন্ন জেলায়। দেশের গন্ডী পেরিয়ে তা যাচ্ছে বিদেশেও।
যশোর আঞ্চলিক কৃষি অফিস সূত্র জানিয়েছে, দেশের সবজির একটি বড় অংশ উৎপাদিত হয় যশোরে। গ্রীষ্মকালিন, আগাম শীতকালিন ও শীতকালিন এই তিন ভাগে বারো মাস সবজির চাষ হয়ে থাকে। জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সবজির চাষ হয় যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি, হৈবতপুর ও কাশিমপুর ইউনিয়নে।
এছাড়া ঝিকরগাছা, চৌগাছা, বাঘারপাড়া ও মণিরামপুরে বিগত কয়েক বছর ব্যাপকভাবে সব্জী তরিতরকারি চাষাবাদ হচ্ছে। এবার যশোর সদর উপজেলায় আগাম সবজির চাষ হয়েছে প্রায় ৩০০০ হেক্টও জমিতে। এরমধ্যে সবজি খ্যাত হৈবতপুর ইউনিয়নে ১৩৫০ হেক্টর, চুড়ামনকাটি ইউনিয়নে ৪৫২ হেক্টর ও কাশিমপুর ইউনিয়নে ৩০০ হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালিন সবজির চাষ হয়েছে।
এই এলাকার সবজির সুনামের পাশাপাশি ব্যাপক চাহিদাও রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা জাকির হোসেন। চুড়ামনকাঠি, আব্দুলপুর ছাতিয়ানতলা, শানতলা, নুরপুর, বাগডাঙ্গা, দোগাছিয়া, সাজিয়ালী, শ্যামনগর ও কমলাপুরস হৈবতপুর, তীরেরহাট, মানিকদিহি, মথুরাপুর, শাহাবাজপুর, মুরাদগড়, কাশিমপুর, বিজয়নগর, দৌলতদিহি, বালিয়াঘাট, ললিতাদাহ, বালিয়াডাঙ্গা, বেনেয়ালী, ডহেরপাড়া, লাউখালী, নাটুয়াপাড়াসহ বিভিন্ন মাঠ আগাম শীতকালিন সবজিতে ভরা। যেদিকে নজর যায় সেদিকেই দেখা মিলছে নানা প্রকারের সবজি ক্ষেতের। এর মধ্যে সিম মুলা, টমেটো, বাঁধাকপি, ফুলকপি, বেগুন, পটল, উল্লেখযোগ্য।
সবজি চাষি অনেকেই জানান, সব ধরণের সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। বর্তমান বাজার মূল্য বেশি থাকায় তারা প্রতিদিন সবজি বাজারজাত
করছেন। গতবার বৃষ্টিপাতের কারণে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু এবার সময়োপযোগী আবহাওয়া ও পরিমান মতো বৃষ্টির কারণে ফলন হয়েছে। এখন বাজার দর ভালো হওয়ায় আগাম শীতকালিন সবজি চাষে এবার লাভবান হবেন বলে আশাবাদী।
যশোর শহরের বড় বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, আগাম সবজির ভালো দাম পাচ্ছেন চাষিরা। মঙ্গলবার পাইকারী হাটে প্রতি কেজি সিম ১৪০ টাকা ও ফুল কপি ৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া টমেটো ৩০ টাকা, মুলা ৪০ টাকা ও বাঁধা কপি ৬০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
যশোর কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক বাদল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, যশোর সবজির জেলা হিসেবে সারা দেশে পরিচিত। এখানকার সবজির সুনাম অনেক। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে তা ছড়িয়ে পড়ছে দেশ বিদেশের বাজারে। দুটি বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত সবজি বিদেশ
যাচ্ছে।
তিনি আরো জানান, বর্তমানে গ্রীষ্মকালিন সবজির ভরা মৌসুম চলছে। চাষ হয়েছে ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে। বাম্পার ফলন পেয়েছে। দামও পাচ্ছে অনেক। এতে চাষিরা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছে। কিছু দিন পরেই আগাম শীত কালিন সবজির চাষ শুরু হবে। ৮ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ করার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এরপর ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে শীতকালিন সবজির আবাদ করবেন চাষিরা।