মোশাররফ হোসেন : আগাম নির্বাচনের পর জাস্টিন ট্রুডোর লিবারেল পার্টি ১৫৯ আসন নিয়ে সংখ্যালঘু সরকার গঠনের সুযোগ অর্জন করেছিল গত মাসে। সোমবার ৩৮ সদস্যের নতুন মন্ত্রীসভা গঠনের পর আজ অটোয়ায় তারা শপথ নেন।
শপথ গ্রহনের পর প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর প্রাথমিক লক্ষ ̈মাত্রা হিসেবে কানাডার নিম্ন আয়ের নাগরিকদের জন্য আবাসন, কাজ বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য’ ̈সেবা বৃদ্ধি ও জলবায়ুর প্রভাব থেকে কানাডা ও বিশ্বকে রক্ষার জন্য কাজ করার ঘোষনা দেন।
মন্ত্রীসভায় বড়রকমের পরিবর্তন করেছেন ট্রুডোর। হারজিৎ সিং সাজনকে জনসেবায় সরিয়ে অপর ভারতীয় বংশ আনিতা আনন্দকে প্রতিরক্ষা
মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে চমক সৃস্টি করা হয়েছে। আনিতা একজন আইনজীবি। কানাডার কুইনস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিচার বিষয়ে স্নাতক। ̄স্নাতকোত্তর ডিগধী করেছেন টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। অধ্যাপনা ছাড়াও তিনি নিরাপত্তাবিষয়ক টাস্ক ফোর্সে ৫ বছর কাজ করেন।
খ্রীস্টিয়া ফিরিল্যান্ড উপ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। আবার তাকে পররাষ্ট্র থেকে সরিয়ে অর্থবিষয়ক মন্ত্রী করা হয়েছে। তিনি মানবাধিকার ও বৈদেশিক বিষয়ে কানাডার বড় দায়িত্ব পালন করলেও এবার অর্থনীতি মজবুত করার ভার দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে নাফটা, উত্তর আমেরিকা ও মেক্সিকোর সংগে সম্পর্ক উন্নয়নে সফল হয়েছেন বলে কানাডা সরকার মনে করে।
তবে পররাষ্ট্র বিষয়ক মন্ত্রী করা হয়েছে মিলানি জলিকে। ইতিপূর্বে তিনি পর্যটন মন্ত্রী হিসেবে কানাডার সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে পেরেছেন। ২০১৩ সালে সাফল্য দেখিয়েছেন মন্ট্রিয়ালের মেয়র হিসেবে। তিনি মন্ট্রিয়াল ও অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে ডিগ্রী প্রাপ্ত । তাকে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের তরুন নেতা মনে করা হয়।
আবাসন, অভিবাসি, শরণার্থী বিষযক একজন আইনজীবি এবং রিজেন্ট পার্ক টরন্টোয় লিবারেল নেতা আহমেদ হোসেনকে দেয়া হয়েছে আবাসন মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব। ১৯৯৪ সালে সোমালিয়া থেকে তিনি কানাডা আসেন একজন শরণার্থী হিসেবে। অটোয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন
বিষয়ে ডিগ্রিী নেন। কমিউনিটির উন্নয়নের জন্য হোসেন রানী কুইন এলিজাবেথ ২ কতৃক ̄স্বর্ণপদক পান।
মারিয়ে ক্লদ বিবাও কানাডার প্রথম মহিলা যিনি ফেডারেল সরকারের মন্ত্রী হিসেবে কৃষিবিষয়ক মন্ত্রনালয়ের দায়ত্বি পান ২০১৯ সালে। তিনি
ইতিপূর্বে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন। এবার খাদ্য বিষয়টিও তাকে দেখার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
আলবার্টা বিশ্ববিদ্যালয় ও লন্ডন থেকে অর্থনীতিতে ̄স্নাতক, ̄স্নাতকোত্তর, পিএইচডি করা কুইবেকের জিন ইভস ডুকলস কে করোনাকালীন
মহাদুর্যোগের সময় ̄স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
মন্ত্রীসভার অন্যান্য সদস্যরা হলেন: লরেন্স ম্যাক উলে(ভেটার্ন),ক্যারোলিন বেনেট (মানসিক স্বাস্থ্য),ডোমেনিক লিব্লাংক(আন্ত:সরকার) দিয়ান লেবোথিলার(রাজস্ব)কার্লা কোয়ালট্রো (কর্মসংস্থান),প্যাটি হাজদু(আদিবাসী) ফিলিপ ক্যাম্পেইন (শিল্প, বিজ্ঞান) কারিনা গোল্ড (নারী ও শিশু), টেইলর(ভাষা) সিমাসও’রিগান(শ্রম),পাবলো রড্রিগোয়েজ(হেরিটেজ), বিল ব্লেয়ার(জরুরিসেবা) ম্যারি এনজি(আন্তর্জাতিক বাণিজ্য), ফিলোমেনা টাছি(জনসেবা), জনাথন উইলকিনসন(প্রাকৃতিক সম্পদ), ডেভিড লামেত্তি(বিচার), জয়সি মাওে (মৎস), স্টিভেন লবোল্ট(আবহাওয়া ও পরিবেশ), মার্কো মেনডেসিনো(জন নিরাপত্তা) মার্ক মিলার (ক্রাউন) ড্যান ভেনডাল(উত্তরান্চল), ওমর আলঘাবরা(পরিবহন), র্যান্ডি বয়সোনাল্ট(পর্যটন), সিন ফ্রেজার(অভিবাসন, শরণার্থী,নাগরিকত্ব), গাদি হাটচিং(পল্লী), মার্সি লিন(মহিলা,যুব), কামাল খেরা(সিনিয়রস), পাসকেল সেন্ট অনজি(ক্রীড়া)। মন্ত্রীসভার সদস্য ৩৮জন। ১৯জন পুরুষ ও ১৯জন মহিলা।