ইউক্রেনের দুটি শহরে সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বন্দর নগরী মারিওপোলসহ ইউক্রেনের দু’টি শহর থেকে বাসিন্দাদের চলে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী শনিবার অস্ত্রবিরতি ঘোষণা করেছেন। নগরী দু’টি রুশ বাহিনী ঘিরে রেখেছে। খবর এএফপি’র।
তারা জানায়, ‘আজ, ৫ মার্চ মস্কো সময় সকাল ১০ টা থেকে (গ্রিনিচ মান সময় ০৭০০ টা) রাশিয়ার পক্ষ থেকে অস্ত্রবিরতি ঘোষণা এবং মারিওপোল ও ভলনোভাখা নগরীর বেসামরিক নাগরিকদের চলে যাওয়ার সুযোগ করে দিতে বিভিন্ন মানবিক করিডোর উম্মুক্ত করা হয়।’
রাশিয়ার বার্তা সংস্থাগুলোর পরিবেশন করা খবর অনুযায়ী, স্থানীয় মানবিক করিডোর ও এক্সিট পয়েন্ট ইউক্রেন কর্তৃপক্ষের সাথে করা চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় জানায়।
রাশিয়ার বাহিনী গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেনে হামলা চালিয়ে আসছে।
মারিওপোলের মেয়র ভাদিম বয়চেনকো শনিবার জানান, এ নগরী বন্ধ থাকায় মানবিক করিডোর উম্মুক্ত করার আহ্বান জানানোর পর এমন ঘোষণা আসলো। রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতা বাহিনী ও দেশটির সামরিক বাহিনী জানায়, শহরটি অবরুদ্ধ ছিল।
ইউক্রেনে কাঙ্ক্ষিত সামরিক লক্ষ্য অর্জন করতে রুশ বাহিনীর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজধানী কিয়েভের নিয়ন্ত্রণ। এ লক্ষ্যে রুশ সেনারা সাঁজোয়া যানের ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বহর নিয়ে কিয়েভের উদ্দেশে যাচ্ছিলো। যুদ্ধবিরতি শুরু হলেও সেই বহর কিন্তু বহাল তবিয়তেই রাখা হয়েছে। বলা হচ্ছিল, প্রয়োজনীয় রসদের ঘাটতির কারণে চরম আঘাত হানছেন না পুতিন। প্রশ্ন হচ্ছে, পুতিন কি সেই অভাব পূরণের সুযোগ নিতে এই যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেন।
এছাড়া, বেসামরিক লোকজনের হতাহতের কারণেও সমালোচিত হচ্ছিল রুশ বাহিনী। পুতিনের পাল্টা অভিযোগ ছিল সাধারণ মানুষকে মানব ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছেন ভলোদিমির জেলেনস্কি। সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে বেসামরিক নাগরিকরা নিরাপদে সরে যাবেন এমনটাই প্রত্যাশা করা হচ্ছে। প্রশ্ন হলো, নির্মম সামরিক অভিযানের বাধা দূর করতে পুতিন এই মানবিক করিডোরের কৌশল নিয়েছেন কি না?
এবার আসা যাক, পুতিনের কথায় কতটা আস্থা রাখা যায় সে প্রসঙ্গে। অনেকের মতে, রহস্যমানব পুতিনের সিদ্ধান্তে আস্থা রাখা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ ইউক্রেনে হামলার পরিকল্পনা নেই বলার পরও অভিযানের ঘোষণা দেন পুতিন। পরে তিনিই বলেন পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোচ্ছে সামরিক অভিযান। তার এই কথাতে প্রমাণ হয় আগেই চূড়ান্ত ছিল অভিযানের পরিকল্পনা।