প্রেস বিজ্ঞপ্তি: বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন কানাডার উদ্যোগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ১৫ ই আগস্ট, মঙ্গলবার টরন্টোর ২৬৭০ ডেনফোর্থ এভিনিউস্থিত বাংলাদেশ সেন্টারের মিলানায়তনে এই অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারী উপস্থিত ছিলেন।
ফাউন্ডেশন এর সভাপতিত্ ড. হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্ব ও সাধারণ সম্পাদক শেখ জসিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় টরেন্টের বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী নন্দিতা মজুমদারের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানের প্রারম্ভেই বঙ্গবন্ধু সহ ১৫ ই আগস্টের সকল শহীদ দানদেরর স্মরণে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন করা হয়। পরে কনস্যুলেট কর্মকর্তা মোঃ আমান উল্লাহার পরিচালনায় ১৫ই আগস্টের সকল শহীদানদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া পাঠান্তে মোনাজাত করা হয়। বক্তব্য রাখেন ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টাবৃন্দ যথাক্রমে ড. আব্দুল আউয়াল, আমিন মিয়া ও কামাল উদ্দিন আহমেদ। আরও বক্তব্য রাখেন ফাউন্ডেশনর সহ-সভাপতিবৃন্দ মোঃ দেলওয়ার হোসেন (হাসান), তরিকুল ইসলাম হেলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক কবিরুল ইসলাম, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জাহেদ চৌধুরী ও সদস্য রফিকুল ইসলাম। অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কানাডায় বিমান বাংলাদেশ কান্ট্রি ম্যানেজার এম. মেজবাহ উদ্দিন, কানাডা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোর্শেদ আহমেদ মুক্তা, অন্টারিও আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি প্রকৌশলী নওশের আলী । বক্তাদের বক্তব্যে ৭৫ এর ১৫ ই আগস্ট নৃশংস ভাবে সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে পরাজিত শক্তির দোসর, খুনি মোস্তাক, ডালিম, জিয়া ও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদের ষড়যন্ত্রে রচিত হয়েছিল ১৫ ই আগস্টের রক্তাক্ত ট্রাজেডি। তাদের উদ্দেশ্য ছিল বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রের পরিণত করার। বঙ্গবন্ধু হত্যার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ, আদর্শ, নীতি ও উদ্দেশ্যের বিপরীতে পরিচালিত হতে থাকে বাংলাদেশ। দীর্ঘ একুশ বছর স্বাধীন স্বদেশের মাটিতে রাষ্ট্রীয়ভাবে বঙ্গবন্ধু ছিলেন একটি নিষিদ্ধ নাম। ইতিহাস বিকৃতির ধারাবাহিকতায় বিভ্রান্তির অতলান্তে হারিয়ে যায় ৭৫ পরবর্তী প্রজন্মের একটি অংশ।

দীর্ঘ ২১ উৎসরের এ অচলায়তন ভেঙ্গে ১৯৯৬ সালে প্রথমবারের মত ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন বঙ্গবন্ধু তনয়া জননেত্রী শেখ হাসিনা। পুনরায় দ্বিতীয় মেয়াদে ২০০৮ সালে ক্ষমতায় এসে টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতাসীন আছেন তিনি। পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা আজ তার নেতৃত্বে সর্ব ক্ষেত্রে উন্নয়নের মাধ্যমে ডিজিটাল সোনার বাংলায় পরিণত হয়েছে। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করেছেন বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার ও যুদ্ধ অপরাধীদের বিচার। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দন্ড কার্যকর হলেও বিদেশে পলাতক রয়েছে কয়েকজন খুনি। কানাডার মত সভ্য ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল দেশে পালিয়ে আছে বঙ্গবন্ধুর অন্যতম খুনি নূর চৌধুরী। বক্তাদের বক্তব্যে খুনি নূর চৌধুরীকে বাংলাদেশের ফেরত পাঠানোর জোর দাবি ফুটে ওঠে। এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন সহ বঙ্গবন্ধুর আদর্শের অনুসারী সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে খুনি নূর চৌধুরীকে ফেরত পাঠানোর আন্দোলন অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন সকলেই। সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানান।
বক্তব্য পর্ব শেষে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রচিত কবিতা আবৃত্তি করেন ফাউন্ডেশনের সাংস্কৃতিক সম্পাদক কাজী আব্দুল বাসিত, সদস্য বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক কর্মী আহমদ হোসেন ও কবি মেহরাব হোসেন। অনুষ্ঠান শেষে সকলের মাঝে তবরুক বিতরণ করা হয়।