আমাদের প্রত্যেকের জীবনেই কিছু না কিছু উদ্দেশ্য থাকে; সেটা বিভিন্ন ব্যক্তির জন্য বিভিন্নরকম হতে পারে। তবে একটি বিষয় কমবেশি সবার জন্যই সমান। সেটা হলো সবাই চাই একটি সুখী জীবন। আর যদি বলি কিছু অভ্যাস মানলে আপনিও হতে পারবেন সুখী। আজ এমন কিছু অভ্যাসের কথা বলবো যেগুলো প্রতিদিনের অভ্যাসে পরিণত করতে পারলে আপনিও একটি সুখী হতে পারবেন।
১. হাসুন
সাধারণত আমরা যখন সুখী থাকি তখনই হাসি। কিন্তু যদি বলি সুখী থাকতে প্রাণখুলে হাসা প্রয়োজন? হ্যাঁ, গবেষণা বলছে আমরা হাসলে মস্তিষ্কে ডোপামিন নামে একটি হরমোন নিঃসরণ হয় যা আমাদের সুখী হওয়ার অনুভূতি দেয়।
২. ব্যায়াম করুন
ব্যায়াম আমাদের শরীরের পাশাপাশি মস্তিষ্কের জন্যও অনেক উপকারী। নিয়মিত ব্যায়াম আমাদের মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও বিষণ্ণতা কমাতে সাহায্য করে।
৩. পর্যাপ্ত ঘুমান
একজন পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির জন্য প্রতিদিন অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। সুখী হওয়ার জন্য সুস্থ থাকা জরুরি। ঘুম আমাদের মস্তিষ্কের কার্যক্রম ও মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সাহায্য করে।
৪. খাবার নিয়ে সচেতন হন
খাবার সরাসরি আমাদের শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। তবে কিছু খাবার আমাদের মানসিক স্বাস্থ্য ভালো ভালো রাখতে সাহায্য করে। কার্বোহাইড্রেট খেলে সেরোটোনিন নামের একটি হরমোন নিঃসরণ হয় যা আমাদের সুখী অনুভূতি দেয়।
৫. কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন
গবেষণায় দেখা গেছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে মানসিক শান্তি পাওয়া যায়। আপনার জীবনের এমন কিছু খুঁজে বের করুন যার জন্য আপনি কৃতজ্ঞ এবং আয়নার সামনে দাড়িয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করুন।
৬. প্রশংসা করুন
আমরা যদি কোনো কিছুর প্রতি সহানুভূতি দেখাই তবে আমাদের মনে সুখের অনুভূতি হয়। এটা গবেষণা থেকেও প্রমাণিত। তাই আপনার প্রিয় ব্যক্তি, সহকর্মী বা বাসের সিট ছেড়ে দেওয়া ব্যক্তির প্রশংসা করুন।
৭. গভীর শ্বাস নিন
উদ্বেগ-বিষণ্ণতা আসলে ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নিন। গবেষণা থেকে প্রমাণিত, গভীর শ্বাস নিলে মানসিক উদ্বেগ ও বিষণ্ণতা কমে। পরবর্তীতে যখন মানসিক চাপে থাকবেন—তখন চোখ বন্ধ করুন, আপনার একটি ভালো মুহূর্তের কথা মনে করুন। ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নিন। তারপর আস্তে আস্তে ছেড়ে দিন। কয়েকবার এভাবে করলে আপনার উদ্বেগ অনেক কমে যাবে।
৮. অসুখী মুহূর্ত মেনে নিন
আমাদের সবার জীবনেই এমন সময় আসে যখন আমরা খারাপ পরিস্থিতির সম্মুখীন হই। জীবন থেকে খারাপ সময় একবারে মুছে ফেলা যাবে না তাই খারাপ পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে; মেনে নিতে হবে।
৯. অন্যের সঙ্গে তুলনা করবেন না
নিজেকে অন্যের সঙ্গে কখনোই তুলনা করবেন না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে বা অকল্যাণে আমরা এখন প্রতিনিয়ত অন্যের সঙ্গে নিজের তুলনা করি। তবে এর ফলে আমাদের বিষণ্ণতা, আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া, উদ্বেগ তৈরি হয়।