গোলাম শেখ (৬২) ১০ বিঘা তরমুজ চাষ করেছেন বাহিরগ্রামের মাঠে। তিনি লাকি ড্রাগন ও সিনজেন্টা ড্রাগন এই দুই জাতের বিঘাপ্রতি ৩৫০মন উৎপাদন টার্গেট করেছেন। জমিতে তার তরমুজ ফুল থেকে সবে ফলে রুপ নিতে শুরু করেছে। প্রতিটি তরমুজ সর্বনিম্ন ১৮ থেকে সর্বোচ্চ ২২ কেজি ওজনের হবে বলে এই কৃষক ও তার সহযোগী আব্দুল গনি তরফদার আশা প্রকাশ করেছেন।
বৃহত্তর যশোরের নবীন জেলা নড়াইল। নড়াইল সদর উপজেলার ৮নং কড়োলা ইউপির একটি পুরাতন গ্রাম বাহিরগ্রাম। এই গ্রামের প্রবীন কৃষক গোলাম শেখ। তার পিতা মৃত মালো শেখ ও মাতা বুড়– দুজনেই আজ মৃত। আজ থেকে ৪০/৪২ বছর আগে যখন তার বয়স ২০/২২ বছর সেসময় তার কৃষি কাজে হাতে খড়ি। তারপর অনেক চড়াই উৎরাই সময় পার হয়েছে। এখন গ্রামের মাঠে তার ১০ বিঘায় তরমুজ ছাড়াও সাড়ে পাঁচ বিঘায় দুটি মাছের ঘের ছাড়াও পাঁচ বিঘা জমিতে ধানের আবাদ রয়েছে। আর দেড় মাস পর তরমুজ বাজারে তোলা যাবে। এই বিক্রির সিজন থাকত অন্তত: এক মাস। তার প্রতি তরমুজের ওজন হবে সর্বনিম্ন ১৮ থেকে সর্বোচ্চ ২২ কেজি।
তিনি খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার ৪নং দেলুটি ইউপির হরিনখোলা থেকে এসব তরমুজের বীজ সংগ্রহ করেছেন। তরমুজ চাষে এঁটেল মাটি খুবই উপযোগী। এ কারনে বাহিরগ্রামে তিনি তরমুজের বাম্পার ফলনের মাধ্যমে গ্রামের আশে পাশের সকলকে তাক লাগিয়ে দিতে চান। এর আগেও গোলাম শেখ তরমুজ চাষ করেছেন। তবে টপিজ জাতের ছিল সেটি। লাকি ড্রাগন ও সিনজেন্টা ড্রাগন জাতের তরমুজ চাষ তার ক্ষেত্রে যেমন প্রথম তেমনি এলাকায়ও আর কেউ আগে চাষ করেনি।
তবে এটিই বিশ্বের বড় জাতের তরমুজ নয়। চীনের ফ্যাংভাও জাতের তরমুজ মন ছাড়িয়েও আরো বেশি ওজনের হয় একেকটি। গোলাম শেখ জানান, তার দুই পুত্রের একটি রিয়াজ শেখ মারা গেছে। আরেক পুত্র টিটো শেখ, পুত্র বধূ, এক পুতনী ও এক পোতা নিয়ে তার পরিবার। এবার তরমুজ চাষে তার খরচ হয়েছে তিন লক্ষ টাকা। সার্বক্ষনিক পরিচর্যায় গোলাম শেখের সাথে রয়েছেন খুলনা পাইকগাছার হরিনখোলার তরমুজ চাষে অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কৃষক আব্দুল গনি তরফদার। এই দুজনে দিন রাত পরিশ্রম করে বাম্পার ফলনের প্রত্যয়ে অপেক্ষমান।
এই চাষী রাজধানী ঢাকার মোকাম টার্গেট করেছেন। সেখানে তিনি ভাল দামে তরমুজ বিক্রি করতে আশাবাদি। আশা রয়েছে ১২ থেকে ১৮ লক্ষ টাকায় এই তরমুজ বিক্রি হবে। গোলাম শেখ ও গনি তরফদার এবার আর্থিকভাবে সচ্ছলতা আনতে তরমুজ চাষ করছেন তা নয়। তবে তারা এলাকায় মাইলফলক অর্জন করতে উদগ্রীব। এবারের অভিজ্ঞতায় তারা আগামী মৌসুমে ২০ বিঘা জমিতে এই দুই জাতের তরমুজ চাষের পরিকল্পনা করেছেন।
তাদের মাঠের জমি ৩৩ শতকের। তবে একই জেলায় ৫২ শতকের মাপের বিঘাও আছে। তবে দুরাশার কথা উড়িয়ে দিচ্ছেননা গোলাম শেখ। বড় ধরনের বর্ষা বা ঢাল এলে, মাঠে যদি পানি জমে যায় তখন আশা হবে হত। সেই দুরাশার মেঘ থাকলেও আশাটিই বেশি। কেননা শ্রাবনের আগে বর্ষা ঢলে রুপান্তরের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। এজন্য এখনও দেরি তিন সাড়ে তিন মাস। তার আগেই তরমুজ ফলন ও বিক্রি দুটোই শেষ হয়ে যাবে।
গোলাম শেখ বলেন, যশোর নড়াইল অঞ্চলে বড় লাকি ড্রাগন ও সিনজেন্টা জাতের তরমুজ চাষ হওয়ার কথা শোনা যায়নি। এখানে যে তরমুজ চাষ হয় তার সর্বোচ্চ ৭/৮ কেজি ওজনের। নড়াইল, কালিয়া, নড়াজ্ঞাতি ছাড়াও যশোরের কেশবপুর, চৌগাছা, মনিরামপুর, শিকরগাছা, শার্শায় তরমুজ চাষের কথা শোনা যায়। তিনি যশোরে হ্যাচারীজ মৎস্য চাষে অভিজ্ঞ। একারনে তার দুটি ঘেরে যেমন মাছ রয়েছে। তেমনি একই মাঠে ধান রয়েছে।
তবে তার আশা তরমুজ নিয়ে। তার এখন ১২/১৩ হাজার তরমুজ গাছ রয়েছে। বেশির ভাগ গাছে ইতিমধ্যে ফুল এসেছে। কোন কোন গাছে ফুল ফলে রুপান্তর হতেও দেখা যাচ্ছে। রাতে চুরি ও শেয়াল ঠেকাতে তিনি ও গনি তরফদার একটি প্রহরা চৌকি ঘর তৈরি করে তরমুজ ও মাছ পাহারার সংকল্প করেছেন।
এজন্য তিনি ও আব্দুল গনি তরফদার আরো সাত দিন সার, পানি, কীটনাশক তরমুজ ক্ষেতে প্রয়োগের পাশাপাশি ঘর নির্মানেও ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ত থাকবেন। দুই সপ্তাহ পর তরমুজ সাইজ হয়ে যাবে তখন মনে প্রশান্তি এসে যাবে বলে মতামত ব্যক্ত করেছেন জীবনে এই পোড় খাওয়া কৃষক।