বিশ্বের প্রথম সেলফি ১৮৩ বছর আগে তোলা হয়েছিল। একটা সময় ছিলো, যখন নিজের ছবি তুলে দিতে আরেকজন মানুষের প্রয়োজন হতো। কিন্ত ফ্রন্ট ক্যামেরা আসার পর ব্যাপারটি পালটে যায়। সবাই এখন নিজের ছবি ইচ্ছেমত তুলতে পারে, বর্তমানে যাকে বলা হয়ে থাকে সেলফি।
রোজকার জীবনে এখন বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে এই সেলফি। সিনেমা দেখতে যাওয়া, দাওয়াত কিংবা আড্ডা, সব জায়গাতেই মানুষ এখন ভীষণভাবে সেলফি সচেতন। কোনও কাজ করার আগেই প্রত্যেকে এখন ভেবে নেয় সেলফির পোজটা কী হবে, কোন পোজে সেলফি ক্লিক করলে ফেসবুকে রিঅ্যাক্ট পড়বে বেশি।
তবে কখনো কি মনে হয়েছে প্রথম সেলফি কে তুলেছে আর কবেই বা তুলেছে?
সেলফি নামকরণের ঘটনাটাও বেশ মজার। শব্দটির প্রথম ব্যবহার হয় ২০০২ সালে, এক অস্ট্রেলীয় তরুণ ইন্টারনেটের একটি ফোরামে নিজের ২১তম জন্মদিনে তোলা একটি ছবি পোস্ট করে তাতে নাম দিয়ে দেন সেলফি । এদিকে ইনস্টাগ্রামে হ্যাশট্যাগ হিসেবে সেলফির প্রথম ব্যবহার হয় ২০১১ সালের ২৭ জানুয়ারি।
তাছাড়া সেলফি শব্দটি এই আধুনিক ফ্রন্ট ক্যামেরার যুগের শব্দ হলেও বিশ্বের প্রথম সেলফি তোলা হয়েছিলো কিন্তু আজ থেকে ১৮৩ বছর আগে। বিশ্বের প্রথম এই সেলফি তুলেছিলেন রবার্ট কর্নেলিয়াস নামে এক রসায়নবিদ। অবশ্য তখনও সেলফি নাম পায়নি রবার্টের নিজের তোলা ছবিটি। মাত্র ৩০ বছর বয়সে ছবিটি তুলেছিলেন তিনি।
জানা যায়, উজ্জ্বল আলোতে ছবি তোলার জন্য রবার্ট কর্নেলিয়াস তাদের দোকানে ঝোলানো ঝাড়বাতির আলোর ঠিক সামনেই দাঁড়িয়েছিলেন। এরপর ক্যামেরার লেন্স খুলে টানা ১৫ মিনিট তার সামনে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছিল তাকে। সে সময় ড্যাগেরোটাইপ ফটোগ্রাফিতে ছবি তুলতে অনেক সময় লাগত। বেশি সময়ের জন্যই সম্ভবত রবার্টের সেলফিতে তার দৃষ্টি অসাবধানতাবশত ক্যামেরা থেকে সরে যায়। তবে নিখুঁত না হলেও প্রথম সেলফির কৃতিত্ব পেতে অসুবিধা হয়নি রবার্টের।
পরে ছবির উল্টোপিঠে নিজের হাতে লিখে রেখেছিলেন- দ্যা ফার্স্ট লাইট পিকচার এভার টেকেন, ১৮৩৯। আর এভাবেই বিশ্বের প্রথম সেলফি তোলা হয়। অবশ্য এই ছবির চার বছর পরে আরও একটি সেলফি তুলেছিলেন কর্নেলিয়াস। ১৮৭৭ সালে অবসর নেন তিনি । ১৮৯৩ সালে মারা যান বিশ্বের সেলফি এই পথিকৃৎ । রবার্ট কর্নেলিয়াসের সেলফি ছবিটি বর্তমানে লাইব্রেরি অব কংগ্রেসে রক্ষিত আছে।