র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, ঢাকার মিরপুরের কালশী এলাকায় বাসে আগুন দেওয়ার অভিযোগে ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আগুন দেওয়ার পর নিজেদের গ্রুপের মধ্যে টাকা ভাগাভাগি করে নিতেন তারা। সেই সঙ্গে যানবাহনে আগুন দেওয়ার পরই ভিডিও ধারণ করে শীর্ষ নেতাদের কাছে পাঠাতেন তারা।
মঙ্গলবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কারওরান বাজারে র্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান তিনি।
কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, সোমবার (২০ নভেম্বর) রাতে র্যাব-৪ এর একটি দল রাজধানীর মিরপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় আল মোহাম্মদ চাঁন, মো. সাগর, মো. আল আমিন ও মো. খোরশেদ আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা বিরোধী একটি রাজনৈতিক দলের কর্মী। তাদের দলের স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের নিদের্শনায় চাঁন রাজধানীর মিরপুর ও পল্লবীর আশপাশের এলাকায় বাসে অগ্নিসংযোগ করার পরিকল্পনা করে।
তিনি বলেন, গত ১৮ নভেম্বর সন্ধ্যায় চাঁন ও তার সহযোগী সাগর ও আল আমিনসহ রাজধানীর মিরপুর-১১, তালতলা নাভানা, কালশী রোড, সিরামিক রোড এলাকায় সুবিধা জনক স্থানে সুবিধা মতো সময়ে যানবাহনে আগুন দেওয়ার জন্য রাত আনুমানিক ৯টা পর্যন্ত রেকি করে। আল মোহাম্মদ চাঁন যানবাহনে আগুন দেওয়ার জন্য তার বন্ধুর মোটরসাইকেল থেকে ২৫০ এমএল পরিমাণ পেট্রোল বের করে টাইগার এনার্জি ড্রিংকের বোতলে ভোরে ঐদিন সন্ধ্যায় আল আমিনের কাছে দেয়। ওই দিনই পুনরায় রাত আনুমানিক ১১টায় বাসে অগ্নিসংযোগ করার জন্য রাজধানীর কালশী সড়কে রেকি করে। এ সময় কালশী সড়কে মসজিদের পাশে পার্ক করা বসুমতি পরিবহনের একটি বাস সুবিধাজনক হওয়ায় চাঁনের নির্দেশে সাগর ও আল আমিন বাসের কাছে যায় এবং আল আমিন বাসের মাঝের জানালা খুলে পেট্রোল ঢেলে দিয়াশলাই দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে দেয় এবং ঘটনাস্থল থেকে সাগরের সাথে পালিয়ে যায়।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক বলেন, এ সময় চাঁন রাস্তার আইল্যান্ডের ওপর দাঁড়িয়ে যানবাহনে অগ্নিসংযোগের নির্দেশনা প্রদান ও ঘটনা পর্যবেক্ষণ করে। অন্য কোন বিরোধীদলের সদস্যরা যাতে এ ঘটনার ছবি তুলে ও ভিডিও ধারণ করে স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের কাছে প্রেরণ করে কৃতিত্ব নিতে না পারে সেজন্য চাঁন বাসে আগুন দেওয়ার সাথে সাথেই খোরশেদকে ঘটনাস্থল থেকে ভিডিও ধারণ করে তাৎক্ষণিক তাকে পাঠাতে বলে। পরবর্তীতে চাঁন ধারণকৃত ভিডিওটি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে দলের স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের কাছে প্রেরণ করেছে বলে জানায়। কাজের জন্য চাঁন প্রত্যেকের জন্য ১০ হাজার টাকা করে পেলেও সাগর ও আল আমিনকে ৭ হাজার টাকা করে দেয় বলে জানা যায়। মূলত দলের কাছে নিজেদের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি ও দলের প্রতি নিজেদের আস্থার প্রতিদান দিতে তারা এসব নাশকতা ও সহিংসতার ভিডিও ধারণ করে তাদের দলের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের কাছে প্রেরণ করতো বলে জানা যায়।