মোশাররফ হোসেন: অ’নারা কেয়ান আ’ছন , গম আ’ছননি? অ’নারার লাই পেট পূড়ের,,। আপনারা কেমন আছেন, ভাল আছেন? আপনাদের জন্য আমার ভালোবাসা চিরন্তন ।
চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডের মাঠসহ চারিদিকে অবস্থান নেয়া ১০ লক্ষাধিক জনতার মহাসমাবেশে বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনা গত ৪ ডিসেম্বর কথপোকথনকালে এ কথা বলেন । স্মরণকালের লক্ষ লক্ষ জনতার কাছে তার এ আকুতি ধ্বনিত হয়ে বঙ্গোপসাগরের ঢেউয়ের আদলে উত্তর আসে ‘আ’রা গম আছি’- আমরা ভালো আছি।
জনগণের জন্য রাজনীতি। তাদের জীবন বদলে দেয়া বিশ্বনেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে এগিয়ে নেবার জন্য জনতার জবাব ছিল স্বত;স্ফুর্ত ও সঠিক ।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর কথা বলা ও জনগণের মুক্তির লক্ষ্যে কাজ করার সাথে শেখ হাসিনার কথা ও কাজের মিল আছে। ১৯৭০ সালে পলোগ্রাউন্ডের জনসভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ২০২২ সালে শেখ হাসিনা’র জনসভাতে কথপোকথনে মিল দেখা গেল । এ যেন” জনতার সাগরে জেগেছে ঊর্মি..।”
এ মহাসমাবেশে শেখ হাসিনা জনগণে কাছে ভোট চাইলেন । জনতাও তাকে সম্মতি জানিয়েছে।
কেমন ছিল এ মহাসমাবেশ..
গেল ১৮ ও ১৯ নভেম্বর চট্টগ্রামে গিয়েছিলাম । তখন ট্রেন, বাস, রিকশা , গাড়িতে, বাজারে, রাস্তায়, খেলার মাঠে, শিল্পকলায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের’ অনুষ্ঠানে সব জায়গায় কথা বলে বুঝতে পারছিলাম চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ডে শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে স্মরণকালের বিশাল মহাসমাবেশ হবে। তবে তা প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে যায় । নগরীর ওয়ার্ড, উপজেলাসহ উত্তর, দক্ষিণ মহানগরী আওয়ামী লীগের নেতা ও কর্মীদের ঢল বঙ্গোপসাগরের তরঙ্গের মত আছড়ে পড়ে পলোগ্রাউন্ড ও চারিদিকে । উত্তর দিকে লালখানবাজার ওয়াসা, সিআরবি রেলওয়ে আবাসিক এলাকায়, পূর্ব দিকে নিউমার্কেট, দক্ষিণ দিকে দেওয়ানহাট, আগ্রাবাদ, পশ্চিমে টাইগার পাস, আমবাগান পাহাড়তলীতে বড় পর্দায় জনসভায় শেখ হাসিনাসহ নেতৃবৃন্দের বক্তৃতা শোনেন জনগন ও নেতাকর্মীরা।
সকাল থেকে আনন্দ শোভাযাত্রা, বাদ্য বাজিয়ে রকমারি পোশাক পরে ‘তোমার আমার ঠিকানা, শেখ হাসিনা, শেখ হাসিনা, মার্কা আছে.. আছে , নৌকা, নৌকা, বার বার দরকার শেখ হাসিনার সরকার।’ এরকম শ্লোগানে উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছিল চট্টগ্রাম । বন্দর ও কারখানার শ্রমিক, ছাত্র ছাত্রী, নারী শক্তি, মহানগরীর সকল সংসদীয় এলাকার নেতা ও কর্মী, উত্তর, দক্ষিণ জেলার উপজেলা, সাংসদ,দলের নেতা ও কর্মীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে পলোগ্রাউন্ড। সন্দীপ থেকে ট্রলারে করে আসেন কর্মীরা। ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির সম্মিলন ঘটে এ সমাবেশে।
সমাবেশে উপজেলার নেতা ও কর্মীদের উপস্থিতিতে মাঠের ভেতর ভরে ওঠে। মহানগরীর মানুষ অবস্থান নেন বিভিন্ন অংশে ।

সবার প্রত্যাশা ছাড়িয়ে যায়…
মহাসমাবেশ পরবর্তী আলাপে উত্তর জেলার সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুস সালাম বলেন, প্রস্তুতি ছিল সুশৃঙ্খল মহাসমাবেশের । লক্ষ লক্ষ মানুষের সমাবেশ শান্তিপূর্ণ করতে পারার জন্য আমরা সকলের কাছে কৃতজ্ঞ। নতুন জীবনের জয়গান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কাজ করছে ।
মহানগরীর সিনিয়র সহ সভাপতি ও সিটি কর্পোরেশনের সাবেক প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজন, বলেন, আওয়ামী লীগ নেতা ও কর্মীরা এখন ঐক্যবদ্ধ । আগামী নির্বাচনে আমরা বিজয় অর্জনে সংকল্পবদ্ধ। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ মানুষের জন্য কাজ করে এগিয়ে যাবে। চট্টগ্রামের জন্য শেখ হাসিনা তার ওয়াদা পূরণ করেছেন। বন্দরের উন্নয়ন, কর্ণফুলী টানেল ও মেরিন ড্রাইভ, বিদ্যুত ও পানিসহ সবরকম কাজই শুধু করেননি; আজও ২৯টি প্রকলপ উদ্বোধন করেছেন ।
মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক আ জ ম, নাসির উদ্দিন বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আবার প্রমাণ করলো জনগণের জন্য তারা কাজ করে। চট্টগ্রামের উন্নয়নে প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে গেছে ।এজন্য চট্টগ্রাম বাসী শেখ হাসিনা র কাছে কৃতজ্ঞ। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান বলেন, চট্টগ্রাম ও শেখ হাসিনা আত্মার সম্পর্কের । কর্ণফুলী টানেল ও কক্সবাজার রেল, মাতারবাড়িতে বিদ্যুত ও গভীর সমুদ্র বন্দর দক্ষিণ চট্টগ্রামের জীবন বদলে দেবে। নতুন জীবনের জয়গান গাইবে জনগণ। বিজয়ের মাস ডিসেম্বর ।

আগামী ২০২৪ সালের জানুয়ারি প্রথম সপ্তাহে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সাংবিধানিক ভাবে নির্বাচন পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন । সেসময় বর্তমান সরকার তিন মাস রুটিন কাজ করবে। নির্বাচন কমিশনকে সরকার সহযোগিতা করবে। নির্বাচনে বিজয়ী দল আগামী সরকার গঠন করবে । এটাই সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ।
তবে একবছর আগেই আগামী নির্বাচন নিয়ে প্রচারণা শুরু করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদসহ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি নির্বাচনে অংশ গ্রহন করার জন্য একইভাবে তাদের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
১০ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির মহাসমাবেশ ,
কিন্তু বিএনপিসহ তাদের সমমনা দলগুলো সাংবিধানিক পদ্ধতির বাইরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলন করছে । এজন্য তারা সারা দেশের বিভাগীয় সমাবেশ করে ঢাকায় সমাবেশের জন্য অপেক্ষায়। তবে মংগলবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় নয়াপল্টনের সামনে সমাবেশের আয়োজন করা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে নেতা ও কর্মীদের সৃষ্ট গোলযোগে দোকানদার মকবুল নিহত হন। এর পর রিজভি, আমান, এনি, সালাম, মিলনসহ বিএনপির ৭ নেতাকে পুলিশ আটক করেছে। বিএনপি অফিসে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ১৫ টি হাত বোমা ও চালের বস্তা জব্দ করেছে। পুলিশ কমিশনার বলেছেন, সমাবেশ হতে হবে খোলা মাঠে । রাস্তায় নয়। বিএনপি তাহলে কী চাইছে? দলের সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় সমাবেশ হবেই।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ঢাকা দখলের হুমকি দিয়ে লাভ নেই। জনগণের সমস্যা করলে আওয়ামী লীগ চুপ করে থাকবে না ।
এম এ আজিজ, জহুর আহমেদ চৌধূরী, হান্নান, মান্নান, এস এম ইউসুফ, এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধূরী, আকতারুজ্জামান চৌধূরী, এম এ ওহাব, আবু সালেহ , ইঞ্জিনিয়র মোশাররফ হোসেন, ডা. আফছারুল আমিন এর উত্তরসুরি খোরশেদ আলম সুজন, আবদুস সালাম, আ জ ম নাছির উদ্দিন, মফিজুর রহমান, শেখ আতাউর, গিয়াস উদ্দিন, এ টি এম পেয়ারুল ইসলাম এবং ডঃ হাসান মাহমুদ, নওফেল, সাইফুজ্জামান চৌধূরী, মাইনুদ্দিন হাসান, আমিনুল ইসলাম, বিপ্লব বড়ুয়া এ তরুণ নেতৃত্ব চট্টগ্রামের রাজনৈতিক নেতৃত্ব কতটুকু দিতে পারেন, এজন্য অপেক্ষা করতে হবে ।
জনগন চায় এ ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন । তবে দেশী ও বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীদের বিষয়ে জনগনকে সতর্ক থাকতে হবে । দেশকে এগিয়ে নিতে হবে শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় ।