মোশাররফ হোসেন: ৭ জানুয়ারি ছিল বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন। বিশ্ব পরাশক্তির দৃষ্টি ছিল এ নির্বাচনে। কী হতে যাচ্ছে? এ নিয়ে গেল ২০২৩ সাল জুড়ে নানান হিসেব কষে একের পর এক, দলে দলে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স, বৃটেন ভারতসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশ, জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি বাংলাদেশ সফর করেন। ভারতে অনুষ্ঠিত জি ২০ সম্মেলন ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ঠিক তার বিপরীতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শিতা মিলে বাংলাদেশ সকল পরাশক্তি সহ সব দেশে ধারাবাহিক সফর করে নিজস্ব পরিকল্পনা কার্যকর করে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক কৌশল অবলম্বন করে রাজনৈতিক লক্ষ্য চূড়ান্ত করে।

নির্বাচন হবে সংবিধান মোতাবেক। কোন প্রকার অসাংবিধানিক কর্মের সুযোগ রাখেনি বাংলাদেশ। অনির্বাচিত কোন পথে হাটেনি বাংলাদেশের সরকার।
তাই রাজনৈতিক বক্তব্য ছিল, খেলা হবে। হয়েছে তাই। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে ২৮টি দল। ৪৪টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে বিএনপিসহ ১৬টি দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি।
তারপরও সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেন ৪৩৭জন। মোট ৪ হাজার ১০০ প্রার্থী এবারের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। ১১কোটি ৯৬লক্ষ,৯১ হাজার ৬৬জন ভোটারের মধ্যে ৪১,৮ % ভোট দেন। সবচাইতে বেশি ভোট দেন গোপালগঞ্জ ৩ আসনে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছিলেন প্রার্থী। তিনি ২ লক্ষ ৪৯ হাজার ৯৬২ ভোট পান।
এরকম অগ্নিকন্যা মতিয়া চৌধুরী পেয়েছেন ২ লক্ষ ১২হাজার ১৪২। তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমু বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের বেসরকারি ফলাফল ঘোষণার পর আওয়ামীলীগ ২২৫, জাতীয় পার্টি ১১, সতন্ত্র ও অন্যান্য ৬২ আসন অর্জন করেছে।
এবারের নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন সাবেক মন্ত্রী, হুইপ ও প্রভাবশালী সাংসদ। সতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে অধিকাংশই আওয়ামীলীগের । জনপ্রিয়তার মাপকাঠিতে,”আমার ভোট, আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব।” এই স্বাধীন ও অবাধ ভোটাধিকার , আর কঠোর শৃঙ্খলা ও উৎসবে আনন্দে ভোট প্রদান করার সুযোগ পাওয়ার জন্য সতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। এটাই ছিল রাজনৈতিক খেলার কৌশল। এতে বিশ্বের গণতান্ত্রিক দেশসমুহ অবাক।এরকম ভোট পর্যবেক্ষণ করতে আসা ৩০০ বিদেশির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ইংল্যান্ড, ভারত , ওআইসির প্রতিনিধিরা বলেছেন, নির্বাচনের পরিবেশ ছিল সন্তোষজনক। অংশগ্রহণ ছিল সতস্ফুর্ত। নির্বাচনে অংশগ্রহণ হার বড় বিষয় নয়, ভোট গ্রহণ পদ্ধতি স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানের। আইন শৃঙলা বাহিনীর কার্যকর দায়িত্ব পালনের জন্য সংঘাত ও প্রাণহানি ছিল না । এখানেই সার্থক বাংলাদেশ ও সরকার।
ভারতের ইন্ডিয়ান টাইমস লিখেছে, এ কী দেখাল বাংলাদেশ। ভারত, চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মত শক্তিকে কৌশলগত আচরনের মাধ্যমে সম্পর্ক ঠিক রেখেই নির্বাচনের মত ঝুঁকিপূর্ণ কাজটি সমাপ্ত করেছে।
আর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতিমালা বাংলাদেশে যে পরাজিত তাতো নিউইয়র্ক টাইমস ও ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল এর প্রতিবেদন প্রকাশিত।
বাংলাদেশের নির্বাচনের মত আভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে রাষ্ট্রদূত পিটার হাস শেষ পর্যন্ত ভারত সফরের পর থেমে যায়। পররাষ্ট্র মন্ত্রী জয়শংকর এজন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন বলে জানা গেছে। ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিরক্ষা এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর বৈঠক ভূরাজনৈতিক ভূমিকা পালন করেছে। সবমিলে ভারত রাশিয়া চীন বাংলাদেশের নির্বাচনে সরাসরি ভুমিকা পালন সকল বাধা পার হতে সহায়তা করেছে।
এসব কিছুর মূল নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও নীতিনিরধারকবৃন্দ।
আগামীতে টানা চতুর্থবার ও মোট পাঁচবার প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন আওয়ামীলীগ সভাপতি ও বিশ্বনেতা শেখ হাসিনা।
নির্বাচনের ফলাফলের পর সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এ বিজয় আওয়ামীলীগের নয়, জনগনের বিজয়। বাংলাদেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। এটাই তিনি দেশী ও বিদেশী পর্যবেক্ষকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন।