লেটিটিয়া কাই। ২৫ বছর বয়সী এই নারীকে নিয়ে বিশেষ ফিচার করেছে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান। আইভরি কোস্টের এই নারী নিজের মাথার চুল দিয়ে বানান বিভিন্ন ভাস্কর্য। সেই ভাস্কর্য কোথাও পাঠানো যায় না। কোথাও প্রদর্শনীর জন্য রাখাও যায় না। কেননা, তাঁর মাথাই সেই ভাস্কর্যের ধারক। আর এই সব ভাস্কর্যের মাধ্যমে যে নিজের শিল্প আর সৃজনশীলতার দিকটি প্রকাশ করেন, তা-ই নয়; বরং রাজনৈতিকভাবেও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন। প্রায়ই বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে তিনি নিজের মাথার চুল দিয়ে বানান একেক ভাস্কর্য।
ইনস্টাগ্রামে পাঁচ লাখ অনুসারী জুটে গেছে কাইয়ের। তাঁর পোস্টের নিচে ভক্তরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। সরাসরি মেসেজ করে জানান। আবার এসব পোস্ট শেয়ার করে সেই প্রতিবাদ ছড়িয়ে দেন। সম্প্রতি নিজের বোধ আর রাজনীতি নিয়ে ‘লাভ অ্যান্ড জাস্টিস’ নামে একটি বই প্রকাশ করেছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাই যে এ রকম একটি বিপ্লব ঘটিয়ে ফেলতে পারবেন, তা কখনো ভাবেননি।
দ্য গার্ডিয়ানের সঙ্গে নিজের ঘরে বসে জুম মিটিংয়ে কথা বলেছেন থেমে থেমে, ধীরে ধীরে। যাতে সঠিক ইংরেজি শব্দটি ব্যবহার করে নিজের মনের কথা প্রকাশ করতে পারেন। কাই বলেন, ‘আমি খুবই সাধারণ একটা মেয়ে যে একসময় তার শরীরকে ঘৃণা করেছে। আমার মতো অতি সাধারণ একটা মেয়ে যদি অল্প সময়ে এই অবস্থানে আসতে পারে, তো আমি বিশ্বাস করি যে কারও পক্ষে নিজের শক্তি আবিষ্কার করে যেকোনো কিছু করে ফেলা সম্ভব।’
দ্য গার্ডিয়ানের সঙ্গে নিজের ঘরে বসে জুম মিটিংয়ে কথা বলেছেন থেমে থেমে, ধীরে ধীরে। যাতে সঠিক ইংরেজি শব্দটি ব্যবহার করে নিজের মনের কথা প্রকাশ করতে পারেন। কাই বলেন, ‘আমি খুবই সাধারণ একটা মেয়ে যে একসময় তার শরীরকে ঘৃণা করেছে। আমার মতো অতি সাধারণ একটা মেয়ে যদি অল্প সময়ে এই অবস্থানে আসতে পারে, তো আমি বিশ্বাস করি যে কারও পক্ষে নিজের শক্তি আবিষ্কার করে যেকোনো কিছু করে ফেলা সম্ভব।’
যে চুল শক্ত করে বেঁধে কলেজে যেতেন, সেই চুলগুলো খুলে স্টাইল করে ঘুরে বেড়াতে লাগলেন। মজার ব্যাপার হলো, যখন থেকে তিনি নিজের চুল ভালোবাসতে শুরু করলেন, তখন থেকে অন্যরাও তাঁর চুলের প্রশংসা করতে শুরু করলেন। বলতে শুরু করলেন, ‘তোমার এত সুন্দর চুল! তুমি কেন ঢেকে রাখতে?’ এরপর ধীরে ধীরে নিজের শরীর আর শারীরিক সৌন্দর্যকে উপলব্ধি আর উদ্যাপন করা শুরু করলেন। এভাবে গায়ের বর্ণ, ওজন, সৌন্দর্য—এগুলো নিয়ে তাঁর ধারণাই বদলে গেল। শরীরের সৌন্দর্য নিয়ে তাঁর নিজস্ব রাজনীতি অনুধাবন করতে শুরু করেন তিনি। কৃষ্ণবর্ণের নারী হিসেবে নিজের সৌন্দর্যের ধারণার রাজনীতি ছড়িয়ে দেওয়া শুরু করেন।
কাই বলেন, ‘যখন আমি একটা জিনিসকে ভালোবাসতে শুরু করলাম, তখন আমি তার সঙ্গে যুক্ত আরেকটা জিনিসকেও ভালোবাসতে শুরু করলাম। এটা নিজেকে নতুন করে চেনা আর ভালোবাসার চেইন বিক্রিয়ার মতো। আমি নিজের চুল ভালোবাসা শুরু করতেই আমার গায়ের রং আমি ভালোবেসে ফেললাম। তারপর আমার শরীরকে ভালোবাসা শুরু করলাম। নারী হিসেবে আমার যে সত্তা আর শক্তি, সেটিকে ভালোবাসলাম। আর এভাবেই আমি ক্রমে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠলাম। আর আমি নিজের ভেতরকার এই শক্তি বিভিন্নভাবে ছড়িয়ে দেওয়া শুরু করলাম। আমি যেমন একজনকে দেখে নিজেকে আবিষ্কার করেছিলাম, আমি চাই, অন্যরাও আমাকে দেখে তার নিজের শক্তি আর সৌন্দর্য উপলব্ধি করুক।’