1. doorbin24bd@gmail.com : admin2020 :
  2. reduanulhoque11@gmail.com : Reduanul Hoque : Reduanul Hoque
May 5, 2026, 5:40 pm
সংবাদ শিরোনাম :
শিগগিরই ১০ম ওয়েজবোর্ড গঠন, প্রকৃত সাংবাদিকদের তালিকা করতে ডাটাবেজ হচ্ছে: তথ্যমন্ত্রী এসো হে বৈশাখ, এসো এসো প্রতিটি গণমাধ্যমকে ফ্যাক্ট চেকিং নিশ্চিত করে সংবাদ প্রচার করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী সাধুর বাজারে—-মিনার মনসুর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ১০৭তম জন্মদিন আজ দূরবীণ ২৪.কম এর ৭ম জন্মদিন আজ ‘সরকার প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে চায়’ হাজারো শহীদের রক্তে ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে “দ্রোহী কথাসাহিত্যিক আব্দুর রউফ চৌধুরী সাহিত্য পদক ২০২৬” পাচ্ছেন রফিকুর রশীদ ও আকিমুন রহমান মাঠটি ভাবেনি তাকে নিয়ে এত কিছু হবে

পটুয়াখালীতে ব্যবসায়ী অফহরণের আসামীরা ইয়াবাসহ গ্রেফতার

  • প্রকাশিত : বুধবার, এপ্রিল ২০, ২০২২
  • 291 বার পঠিত

ব্যবসায়ী শিবুলাল দাসকে অপহরন করে মুক্তিপনের টাকায় দক্ষিণবঙ্গের বড় গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি দিতে চাওয়া ল্যাংড়া মামুন মুফতি মামুনসহ ৪ অপহরণকারীকে পটুয়াখালী জেলা পুলিশের রিকুইজিশনের প্রেক্ষিতে ৪০০০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করেছে ডিএমপি ডিবি পুলিশ। শিবু লালকে অপহরণের কাজে ব্যবহৃত প্রাইভেট কার ও মাদক উদ্ধার করেছে।

পটুয়াখালী জেলা পুলিশের রিকুইজিশনের প্রেক্ষিতে ঐ জেলার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ঠিকাদার শিবু লাল দাসকে অপহরণ করার মূলহোতা ল্যাংড়া মামুন মুফতি মামুনসহ ৪ জনকে ১৯ এপ্রিল ২০২২ তারিখ দুপুর থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত মিরপুর, ভাটারা এবং গুলিস্তান এলাকায় ডিবি গুলশান বিভাগের একাধিক টিম ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলোঃ
১. ল্যাংড়া মামুন(মুফতি মামুন)
২. পিচ্চি রানা
৩. জসীমউদ্দীন
৪. আশিকুর রহমান

তাদের কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ে ব্যবহৃত প্রাইভেটকার, মোবাইল ফোন, গামছা এবং ৪০০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।

ভিকটিম পরিচিতি: শিবু লাল দাস পটুয়াখালী জেলা শহরের পরিচিত ঠিকাদার, ইজারাদার, আড়তদার এবং নানাবিধ ব্যবসায় জড়িত ধনাঢ্য ব্যবসায়ী। অপর ভিকটিম মিরাজ মিয়া পাজেরো জিপের ড্রাইভার। ‌ গত ১১ এপ্রিল ২০২২ খ্রিঃ তারিখ রাত সাড়ে আটটার দিকে শিবু লাল দাস গলাচিপাস্হ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে নিজস্ব পাজেরো জীপ যোগে পটুয়াখালী শহরস্থ বাসায় ফেরার পথে ড্রাইভারসহ নিখোঁজ হন। দূরের একটি পেট্রোল পাম্পের কাছাকাছি পরিত্যক্ত অবস্থায় পাজেরো জীপটিকে উদ্ধার করেছে জেলা পুলিশ।

অপহরনের পরিকল্পনা: পরিকল্পনা হয় গত ফেব্রুয়ারি মাসে। পটুয়াখালী লঞ্চঘাটের কাছাকাছি ল্যাংড়া মামুনের গার্মেন্টস অফিসে। তাতে অংশ নেয় ল্যাংড়া মামুন, পিচ্চি রানা, পাভেল ও বিআরটিসির ড্রাইভার জসিম। পরে একাধিক দিন মিটিং ও অপারেশনাল পরিকল্পনা করা হয়। মিটিংয়ে ঢাকা থেকে মাঝে মাঝে ছুটি নিয়ে যোগ দেয় জসিম উদ্দিন মৃধা এবং তার ভাই গাড়ির দালাল আশিক মৃধা। ১০০০০ টাকা এডভান্স দিয়ে এক সপ্তাহের জন্য গাড়ি ভাড়া করা হয় ঢাকা থেকে। সেই গাড়ি ঢাকা থেকে যায় সুদূর পটুয়াখালী। অপহরণের পর মুক্তিপণ দাবি, নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ ইত্যাদি অপারেশনাল কাজে ব্যবহার করার জন্য ঢাকার সাভার থেকে কেন হয় পাঁচটি বাটন ফোন। বেশি দাম দিয়ে ইতোমধ্যে অন্যজনের নামে নিবন্ধনকৃত সিম কেনা হয় জেলা সদর থেকে। স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করা হয় একটি খেলনা পিস্তল, দুইটি সুইচ গিয়ার, তিনটি চাপাতি এবং গরু জবাই করার একটি বড় ছুরি। পরে একাধিক দিন রেকি করে ফিল্মি স্টাইলে রোমহর্ষক অপারেশন চালানো হয় ১১ এপ্রিল রাত সাড়ে আটটায়।

লোমহর্ষক অপহরণ অপারেশন: ১১/০৪/২০২২ দুপুরবেলা পটুয়াখালী এয়ারপোর্টের কাছে মিলিত হয় অপহরণকারীরা। কার কোথায় কি দায়িত্ব তা নির্ধারণ করে দেয় ল্যাংড়া মামুন এবং পিচ্চি রানা। ভিকটিমদের গতিবিধি মোবাইলে জানানোর জন্য পিচ্চি রানা তাঁর মোটরসাইকেলে ল্যাংড়া মামুনকে নিয়ে চলে যায় গলাচিপা ঘাটে। সন্ধ্যা সাতটার দিকে ব্যারিকেড দেয়ার জন্য পটুয়াখালী-গলাচিপা হাইওয়ে রোডের শাঁখারিয়ার নির্জন জায়গায় একটা প্রাইভেট কার এবং একটা ট্রলি নিয়ে অবস্থান নেয় ৫ জন।

ল্যাংড়া মামুনের নির্দেশে পূর্বেই একটি ট্রাক্টর ভাড়া করে ড্রাইভার বিল্লাল। ঢাকা থেকে নিয়ে যাওয়া প্রাইভেটকারটি নিয়ে ড্রাইভার আশিক মৃধা, পাভেল, হাবিব, সোহাগ এই চারজন অবস্থান নেয়। ল্যাংড়া মামুনের সংকেত পাওয়ার পরপরই সন্ধ্যা আনুমানিক সাড়ে আটটার দিকে ড্রাইভার বিল্লাল ট্রলিটি নিয়ে সুকৌশলে ভিকটিম শিবু দাসের প্রাডো জিপের সামনে আড়াআড়ি করে অবস্থান নেয়। পিছন থেকে অনুসরণ করতে থাকা ড্রাইভার আশিক তার প্রাইভেট গাড়িটি দিয়ে ভিকটিমের গাড়ির পিছনে অবস্থান নিয়ে অবরুদ্ধ করে ফেলে। ট্রাক্টর এবং প্রাইভেটকার থেকে অপহরণকারীরা হুড়মুড় করে মুহূর্তেই উঠে যায় ভিকটিমের প্রাডো জীপে। আশিক প্রাইভেটকার ছেড়ে শিবু দাসের গাড়ির নিয়ন্ত্রণ নেয়।

গাড়িতে উঠেই বিল্লাল ,পাভেল, সোহাগ ,আশিক বেঁধে ফেলে ভিকটিমদ্বয়কে। গামছা, টিস্যু পেপার এবং স্কচ টেপ দিয়ে মুখ, হাত-পা বেঁধে চলতে থাকে চড়-থাপ্পড় কিল ঘুষি। সঙ্গে থাকা খেলনা পিস্তল ও ছোরা- চাকু দিয়ে ভয় দেখানো চলতে থাকে। বরগুনার আমতলী এলাকার গাজিপুরায় গিয়ে ভিকটিমের জিপ গাড়ি থেকে তাদেরকে তোলা হয় ঢাকা থেকে নিয়ে যাওয়া কারটিতে।‌ সেখানে ভিকটিম দুইজনকে আরো ভালোভাবে বেঁধে প্লাস্টিকের বস্তায় ঢুকানো হয় । ইতোমধ্যে ভিকটিমের জীপটিকে আমতলীর একটি ফিলিং স্টেশনে ফেলে আসে।

রাত আনুমানিক সাড়ে এগারোটার দিকে ল্যাংড়া মামুন ও পিচ্চি রানা পটুয়াখালীর বাঁধঘাট এলাকায় ভিকটিমদের বহনকারী গাড়ি বুঝে নেয়। গাড়ি চালাতে থাকে ল্যাংড়া মামুন নিজেই। ল্যাংড়া মামুন সোজা নিয়ে যায় তার এইচ ডি রোডস্হ নিজস্ব মেশিনঘর কাম টর্চার সেলে। সেখানে সারা রাত রেখে নির্যাতন চালায়।আরো ভালো করে হাত মুখ পা বেধে বস্তায় ভরে অন্যান্য আরো মালামালের বস্তার সহ আঅটোরিক্সায়উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এসপি কমপ্লেক্স সুপার মার্কেটের আন্ডারগ্রাউন্ডের নিয়ে রেখে দিলে রাত অনুমান ১০.৩০ ঘটিকায় পুলিশ উদ্ধার করে। উল্লেখ্য যে অপহরণের দিন রাত ০১:৪৫ টায় রানার নির্দেশমতো বিল্লাল ভিকটিমের সিম থেকে ভিকটিমের স্ত্রীকে ফোন দিয়ে পরের দিন দুপুর ২ ঘটিকার মধ্যে ২০ কোটি টাকা মুক্তিপণ দিতে বলে। মুক্তিপণের টাকা না দিলে এবং বিষয়টি পুলিশকে জানালে শিবু লালকে হত্যা করে সাগরে ভাসিয়ে দেয়া হবে বলেও সতর্ক করে দেয় অপহরণকারীরা।

ভিকটিম উদ্ধার: পরের দিন ১২ এপ্রিল রাত ১০.৩০টায় ২৬ ঘণ্টা পরে হাত-পা এবং মুখ বাঁধা বস্তাবন্দি মুমূর্ষ অবস্থায় ভিকটিমদেরকে এসপি কমপ্লেক্স শপিং সেন্টারের আন্ডার গ্রাউন্ড থেকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী জেলা পুলিশ। তাৎক্ষণিকভাবে চোখ- মুখ, হাত-পা খুলে দিয়ে চিকিৎসার জন্য তাদেরকে হসপিটালে ভর্তি করে জেলা পুলিশ।

আসামিদের বিরুদ্ধে মারামারি, মাদক এবং অপহরণের একাধিক মামলা রয়েছে। ল্যাংড়া মামুন@ মুফতি মামুন তার পিতার মাওলানা হিসেবে সুখ্যাতি এবং নিজের পঙ্গুত্বের দোহাই দিয়ে বিভিন্ন ভান ভনিতা করে অনেক অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাওয়ার চেষ্টা করলেও সে এক দুর্ধর্ষ ক্যাডার। অপহরণ বাণিজ্য চালানোর জন্য পটুয়াখালীতে সে গড়ে তুলেছিল টর্চার সেল। সে একজন মাদক সেবী, মাদক ব্যবসায়ী এবং নারী লোভী ব্যক্তি ও বটে। তার কৃত্রিম পায়ের ফোকরে অনায়াসে হাজার হাজার পিস ইয়াবা বহন করে নিয়ে যেতে পারত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায়।

বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে আসামিদেরকে পটুয়াখালী পুলিশ রিমান্ডে এনে জড়িত অন্যান্য আসামীদের গ্রেফতার, সকল রহস্য উদঘাটন এবং তাদের অপরাধের ইতিহাস সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন :
এ জাতীয় আরও খবর

পুরাতন খবর

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১৩১৫
১৬১৯২০২১২২
২৩২৪২৫২৬২৭
৩০৩১  
© All rights reserved © 2024 doorbin24.Com
Theme Customized By Shakil IT Park