মোশাররফ হোসেন: একাত্তরের মত জেগে উঠেছে বাংলাদেশ। ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি নয়, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে অশুভ শক্তির বিনাশ চায়। ধর্ম পালনে আমাদের সংবিধানে সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করেছে।
দূর্গাপূজার সময় কুমিল্লা, চাঁদপুর, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম সহ সারা দেশে পরিকল্পিতভাবে প্রতিমা ভাঙচুর, হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরীহ ও গরিব মানুষের ঘরবাড়ি ও প্রতিষ্ঠানে হামলা। ঘটনা যেন সাম্প্রদায়িক দাংগায় রূপ না নিতে পারে সেজন্য দেশজুড়ে বিজিবি নিযোগ করে সরকার।
এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘটনার সংগে জড়িতদের কঠোর শাস্তি দেয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি না করে দেশবাসীকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন। সাংবিধান অনুযায়ী সবার অধিকার নিশ্চিত করা হবে বলে আজ আওয়ামী লীগের আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আজ সারা দেশে সম্প্রীতি সমাবেশ করেছে। ১৪দলের মধ্যে ওযারকারস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুসহ শরিক দলের নেতৃবৃন্দ পৃথক পৃথক ভাবে পূজার সময় বিএনপির ইন্ধনে জামাত শিবির পূজার মন্ডপে হামলা, বাড়ি ঘরে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন। তারা জড়িতদের কঠোর শাস্তি দেবার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
অপরদিকে ঢাকা , চট্টগ্রাম সহ সারা দেশে সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রতিবাদ সমাবেশ, চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সমাবেশ করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতিবাদী নাটক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সারা দেশে বিজিবি ও পুলিশের টহলের পাশাপাশি জনগন বাড়ি বাড়ি পাহারা দিচ্ছে । একাত্তর এর চেতনায় জেগে উঠেছে বাংলাদেশ ।
আওয়ামী লীগের সম্প্রীতি সমাবেশ
সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সারা দেশে ‘সম্প্রীতি সমাবেশ ও শান্তি শোভাযাত্রা’ কর্মসূচি পালন করেছে আওয়ামী লীগ।
সমাবেশ থেকে সনাতম ধর্মাবলম্বীদের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করে দলটির নেতারা বলেছেন, ‘ভয় নেই, পাশে আছি; সাম্প্রদায়িক অপশক্তির শেকড় উপড়ে ফেলা হবে।’
ষোঘিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার (১৯ অক্টোবর) বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে ‘সম্প্রীতি সমাবেশ ও শান্তি শোভাযাত্রা’ কর্মসূচি পালন করেন দলটির নেতাকর্মীরা।
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, হিন্দু ভাই ও বোনদের বলব, আপনাদের ভয় নেই। শেখ হাসিনা আপনাদের সঙ্গে আছেন, আওয়ামী লীগ আছে।
সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মাঠে থাকবে জানিয়ে কাদের বলেন, যতদিন না সাম্প্রদায়িক শক্তির বিষদাঁত ভেঙে দিতে পারব, ততদিন আওয়ামী লীগ রাজপথে থাকবে। আওয়ামী লীগ এই অপশক্তিকে মোকাবিলা করবে।

এ সময় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, সাম্প্রদায়িক হামলায় যারাই জড়িত, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এরই মধ্যে সরকার খুব কঠোর হাতে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে কোনো সাম্প্রদায়িক অপশক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারবে না। এ দেশ থেকে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির শেকড় উপড়ে ফেলা হবে।
নানক আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু দেখানো সোনার বাংলা গড়ার পথে আছে। এর মাঝখানে যারা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করবে, পরিবেশ-পরিস্থিতি অশান্তি সৃষ্টির পাঁয়তারা করবে তাদেরকে আওয়ামী লীগ প্রতিহত করবে। শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুযায়ী আগামী ৫ নভেম্বর থেকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক টিম সারা দেশে সফর করবে বলেও জানান তিনি।
এ সময় দলের আরেক সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, তারা জানে ভোটের মাধ্যমে এই সরকারকে পরাজিত করতে পারবে না। এজন্য এই ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করে ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে। মুক্তিযুদ্ধের সব শক্তিকে সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।
দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, সম্প্রীতি নষ্ট করার লক্ষ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘর উপাসনালয়ে হামলা চালিয়েছে। এর ভেতর ষড়যন্ত্র আছে। আওয়ামী লীগের এই অপশক্তির বিরুদ্ধে সারা দেশে সতর্ক রয়েছে। এই অপশক্তিকে উৎখাত না করার পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সংগ্রাম চলতে থাকবে।
সমাবেশ শেষে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের নেতৃত্বে শান্তি সম্প্রীতির র্যালি বের হয়। র্যালিটি বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ থেকে শুরু হয়ে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়।
র্যালিতে অংশ নেন সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ড, আব্দুর রাজ্জাক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুল উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান, কেদ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য শাহাবুদ্দিন ফরাজী, শামীমুর রহমান শামীম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় আওয়ামী লীগ ছাড়াও দলটির সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।