স্পোর্টস ডেস্ক : লেবাননের জাতীয় নারী ফুটবল দলে খেলার স্বপ্ন প্রায় পূরণের পথেই ছিলেন সেলিনে হায়দার। কিন্তু তার জীবনই এখন এফোঁড়–ওফোঁড় হয়ে গেছে। মাথায় চিড় ধরা পড়েছে ইসরায়েলের হামলায় প্রাণ সংশয়ে থাকা ১৯ বছর বয়সী সেলিনের। ফলে বর্তমানে তিনি কোমায় চলে গেছেন।
সংবাদ সংস্থা এএফপিকে সেলিনের বাবা আব্বাস হায়দার বলেছেন, ‘সেলিনের পড়াশোনা এবং ট্রেনিংয়ের জন্য দক্ষিণ বৈরুতে যেতেই হতো। সেখানে বোমা হামলার শঙ্কায় উচ্ছেদ ঘোষণার কারণে তাকে জায়গাটি ছাড়তে হতো, এরই মাঝে রাতে ঘুমাতে আসে সেলিনে। পরে আমার স্ত্রী ফোন করে আমাকে জানায় মেয়ে হাসপাতালে ভর্তি।’
সেলিনেকে ধ্বংসস্তুূপ থেকে উদ্ধার করার আগের একটি ভিডিও ছড়িয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। যেখানে দেখা যায়, রক্তে তার মুখ ঢেকে গেছে, পাশে বসে তাকে ধরে কাঁদছিল আরেক তরুণ। সেই হামলায় গুরুতর আহত সেলিনেকে নিয়ে মা সানা শারহাওয়ার এএফপিকে বলেন, ‘খুবই নিকটবর্তী এলাকায় সেই স্ট্রাইক হয়েছিল এবং এতে তার মাথায় আঘাত লাগে। আমার মেয়ের ব্রেইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ফাটল ধরেছে মাথার খুলিতে। এর আগে সে আমাকে পছন্দের খাবার তৈরির কথা বলে বার্তা পাঠিয়েছিল। এক ঘণ্টা পরই আরেক বন্ধু জানায় সেই আহত।’
মেসি-রোনালদোর মতো হতে চাওয়া এই তরুণীর স্বপ্নের মৃত্যু ঘটেছে বলে আহাজারি মায়ের কণ্ঠে, ‘আমার মেয়ে রাজকন্যা, সে বেঁচে ফিরবে। সে বিদেশে খেলার স্বপ্ন দেখেছিল। সবসময়ই চাইতো (ক্রিশ্চিয়ানো) রোনালদো ও (লিওনেল) মেসির মতো হতে। এমন তারকা হতে চেয়েছিল, যাকে নিয়ে সবাই কথা বলবে। এখনও তাকে নিয়ে সবাই কথা বলছে, কারণ সে যুদ্ধে আহত, যেখানে তার কিছুই করার ছিল না। তারা তার স্বপ্নকে হত্যা করেছে।’
কোমায় চলে যাওয়া সেলিনেকে নিয়ে বৈরুত ফুটবল একাডেমির ম্যানেজার জিয়াদ সাদি বলছেন, ‘সেন্ট-জর্জেস হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছে। কিন্তু তার আঘাত গুরুতর, আমরা আশা করি সেই দ্রুতই সুস্থ হয়ে উঠবে। সে ছিল খুবই ব্যতিক্রমী এক মেয়ে এবং দুর্দান্ত এক খেলোয়াড়।’