মোশাররফ হোসেন : মানুষ মানুষের জন্য .. জীবন জীবনের জন্যে .., বলো কী তোমার ক্ষতি, দুর্বল মানুষ যদি.. পার হয় তোমাকে ধরে… ড: ভূপেন হাজারিকার এ গানটি বর্তমানে বার বার ঘুরে আসে। বিশেষ করে যখন দেখি করোনা টিকা নিয়ে মানবতা হয়, বাণিজ্য মুখ্য হয়ে দাঁড়াচ্ছে ।
বিশ্বের শীর্ষ টিকা উৎপাদনকারি ফাইজার বায়োএনটেক, মডার্না , জনসন এন্ড জনসন অগ্রিম ডলার নিয়েও সময়মত বিশ্বজুড়ে করোনা টিকা সরবরাহ করেনি। ততোদিনে মারা গেছে আরও লক্ষ লক্ষ মানুষ । তারা বলেছে কাঁচামালের সংকট ছিল । এমনকি বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশ যুক্তরাষ্ট্র বলে বসল ,“ সবার আগে আমেরিকা ”। কেননা করোনায় যুক্তরাষ্ট্র সর্বাধিক মানুষ মারা গেছে ।তদুপরি রাষ্ট্রপতি সময়মত পদক্ষেপ গ্রহনে বিলম্ব যুক্তরাষ্ট্র বিশাল ক্ষতি হয়েছে । জো বাইডেন রাষ্ট্রপতি নির্বচিত হয়ে আসার পর করোনা টিকা প্রদানের ১০০ দিনের লক্ষ ̈মাত্রা ঘোষনা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে টিকা উৎপাদনকারি তিন প্রতিষ্ঠান ফাইজার, মডার্না, জনসন এন্ড জনসনকে চাহিদা পূরণ করতে হয়েছে । ফলে বিশ্বজুড়ে সময়মত টিকা সরবরাহ করতে পরেনি তারা।এখানে বিশ্ব মানবতা গৌণ হয়ে যায় ।

আবার যুক্তরাজ্য, চীন ও রাশিয়া টিকা ‣তরি করেও অপপ্রচারের জন্য বিভিন্ন দেশে টিকা সরবরাহে বিপাকে পড়ে যায় ।ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশসমুহ সিদ্ধান্ত নিতে বিলম্ব করা এবং যুক্তরাজ্যের অ্যাস্টানজেকা নিয়ে বাণিজ্যক সংঘাত করে নিজেদের ও
বিশ্বব্যাপি বিশাল ক্ষতি করে ফেলেছে । এখনও যা অব্যাহত রয়েছে । এটা টিকা নিয়ে বাণিজ্যিক সংঘাত । টিকার বর্তমান বাজার মূল্য প্রতি ডোজ হচ্ছে : ফাইজার বায়োএনটেক ১৯.৫০ ডলার, মডার্না ২৫.৩৭ ডলার ,জনসন এনড জনসন ১০ ডলার , ̄স্পুটনিক ভি ১০ ডলার (রাশিয়া), সিনোভ্যাক ২৯.৭৫ ডলার (চীন), নোভাভ্যাক্স ১৬ ডলার , অ্যাস্টানজেকা ২.১৫ ডলার (যুক্তরাষ্ট্র ) ইউ ৩-৪ ডলার , ৫.২৫ ডলার দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত বায়োটেক ২ডলার (১৫০ রূপি ) ।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার কথা কেঊ শুনছেন না । জাতিসংঘের কোন জরুরি সভা হয়নি । বিশেষ করে কোভিড ১৯ নিয়ে বৈঠকে বসেনি বিশ্বপরাশক্তি। কিন্তু সামরিক জোটের বৈঠক চলছে ।এখানেই মানবতা বিপন্ন । তবে সম্পধতি জি ৭ বৈঠকশেষে ১ কোটি ডোজ
টিকা জাতিসংঘের মাধ্যমে বিশ্ব স্বাস্থ্যকে দেয়ার কথা ঘোষনা করা হয়েছে ।

বর্তমানে টিকার বাজার মূল্য দেখলে বোঝা যায়, মানুষ বাঁচানো নয় , বাণিজ্য বড় ।কিন্তু বিশ্ব মানবতার কথা বিবেচনা করে টিকা বিনামূল্যে সরবরাহ করতে পারতো ফাইজার,মডার্না , জনসনসহ সকল টিকা উৎপাদন কারি প্রতিষ্ঠান । মুনাফা বাদ দিয়ে শুধু তৈরির খরচেও বিক্রয় করা যেত । তারা দেশে দেশে টিকা উৎপাদনের জন্য ফর্মূলা দিতে পারত। কোনট্ইা করা হয়নি । এখানেই বিশ্ব পরাশক্তি নেতৃত্ব দিতে ব্যর্থ হয়েছে ।

কিন্তু রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে যৌথভাবে টিকা উৎপাদনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রস্তাব এখন বাস্তবায়ন হতে চলেছে। কেননা করোনা থেকে খুব শীঘ্র মেলার সম্ভাবনা নেই । এটা বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা যত দ্রুত উপলব্ধি করবে ততই মজ্ঞল।
কানাডায় করোনা সংক্রমন এখন নিয়ন্ত্রণে ও ২৯ ফিল্ড হাসপাতালে টিকা প্রদান :
কানাডার করোনা সংক্রমন এখন নিয়ন্ত্রণে । ২৯টি ফিল্ড হাসপাতালে দেয়া হচ্ছে করেনার দ্বিতীয় ডোজ টিকা । ফার্মেসিতেও টিকা দেয়া হবে আগামী সপ্তাহে । অন্টারিও রাজ্যে আজ সংক্রমণ ছিল ৩৪৫ জন । টরন্টোয় ৫৮ জন । যা দুইমাস আগে ৩০০০ থেকে ৪০০০ জনে ঠেকেছিল । কানাডার সঙ্গে টিকা সরবরাহ চুক্তি ভংগ করে ফাইজার, মডার্না, জনসন এন্ড জনসন অবশেষে চলতি মাসে টিকা সরবরাহ করেছে । ততদিনে কানাডা স্বাস্থ্যবিধি কঠোর করে আন্ত:রাজ্য চলাচল বন্ধ করে দেয় । এমনকি যুক্তরাষ্ট্র সাথে সীমান্ত চলাচল বন্ধ রাখে ।বিমান ও নৈ চলাচলও খোলেনি । এটা ২২ জুলাই পর্যন্ত কার্যকর থাকবে ।
তবে আন্ত:রাজ্য চলাচল সীমিত পরিসরে খোলা হয়েছে ১৬জুন থেকে । ধাপে ধাপে বিনোদন পার্ক, চিড়িয়াখানা ,সুইমিং পুল , জিমনেসিয়াম , খাবার দোকান,খেলাধূলার মাঠ খোলার ঘোষনা দিয়েছে রাজ্য সরকার ও সিটি কর্পোরেশন । স্কুল,কলেজ ও
বিশ্ববিদ্যালয় চলছে অনলাইনে । গ্রীষ্মকালীন ছুটিশেষে সেপ্টেম্বরে অনলাইন ও স্বাশরীওে বিশ্ববিদ্যালয় চলবে বলে কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছে । তার আগে সব ছাত্রছাত্রীর টিকা দেবে স্বাস্থ্য বিভাগ ও সিটি কর্পোরেশন ।
সিটি কর্পোরেশন বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তিগত অনুদানে সরবরাহ করা টিকা দেয়া ব্যবস্থা করছে ।শুধু সরকারের দিকে তাকিয়ে নেই বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ।টিকা আসায় মানুষ বেঁচে থাকার আশা করছে । ইনজেকশনের বিকল্প নিয়ে গবেষণা শুরু হয়েছে বিশ্বজুড়ে । অচিরেই শিশুদের জন্য ট্যাবলেট ও লিকুয়িড মিলবে বলে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আশা করছে । তবে করোনাকাল আরও ২বছর চলবে বলে আশংকা করা হচ্ছে।এ যাবত ৩৮ লক্ষ ৬৮ হাজার ০৫৩ জন মানুষ মারা গেছেন ।আক্রান্ত হয়েছেন ১৭ কোটি ৮৩ হাজারের বেশি । সর্বাধিক ৬ লক্ষ ১৬ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে যুক্ত্রাষ্ট্রে । তারপর ব্রা ব্ধাজিলে ৪ লক্ষ ৯৮ হাজার ,ভারতে ৩ লক্ষ ৮৫ হাজার ।